মনিরামপুর নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রতিবেদক, মনিরামপুর (যশোর) : যশোরের মনিরামপুরে লাবনি দাস (১৯) নামের অনার্স পড়ুয়া নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ স্বামীসহ শ্বশুর পরিবারের বিরুদ্ধে। বুধবার উপজেলার নেহালপুর ঋষি পল্লীতে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত লাবনি একই পল্লীর পরেশ দাসের স্ত্রী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত লাবনি মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলো। তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই পল্লীর গৌর চন্দ্র দাসের ছেলে যশোর এম এম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র পরেশের প্রেমজ সম্পর্ক চলছিল। প্রেমজ সম্পর্কের জের ধরে পরিবারের অমতে পরেশ চলতি মাসের ১০ আগস্ট লাবনিকে বিয়ে করে। বিয়ের পর লাবনিকে নিয়ে বাড়িতে উঠে পরেশ। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিলো বলে জানাগেছে।

নিহত লাবনির মা লিপিকা দাসের অভিযোগ, তার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় ওড়না জড়িয়ে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে পরেশের পরিবার।

নেহালপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই খাইরুল বাশার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাবনির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় নিহতের দুই পা ঘরের মেঝেতে লাগানো ছিলো। নিহতের গলায় দুইটি স্পষ্ট চিহ্নসহ বাম হাতের কয়েকটি কাটা দাগ রয়েছে। য়েথান থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। এছাড়া নিহতের ডান ও বাম উরুসহ বাম হাতের বাহুতে ‘আমার জীবনের মূল্য নেই, শ্বশূর-শ্বাশুড়ির ভালবাসা পেলাম না, না পলোম পরেশের ভালবাসা-এমন নানা ধরনের লেখা দেখা গেছে।

জেলা পরিষদের সদস্য এসএম ফারুক হুসাইন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাবনির লাশ ঘরের আড়ায় ঝুলে থাকতে দেখেন। কিন্তু নিহতের পা মাটিতে থাকায় আত্মহত্যা নিয়ে সন্দেহ আছে।

মনিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।