পিছিয়ে পড়া যশোরকে এগিয়ে নিতে চাই : সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য

প্রতিবেদক, যশোর:
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসন থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মত সংসদ নির্বাচিত হয়েছেন স্বপন ভট্টাচার্য্য। সরকারের নতুনমন্ত্রী সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ক্লিন ইমেজ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সমাদৃত তিনি। মন্ত্রীসভায় তিনি যুক্ত হওয়ায় যশোরবাসীর প্রত্যাশাও অনেকে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে কি ভাবছেন নয়া প্রতিমন্ত্রী। মোবাইল ফোনে এক সাক্ষাৎকারে স্বপন ভট্টাচার্য্য দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মন্ত্রীত্বের স্বাদ পাওয়ার অনুভূতি, দেশের সার্বিক উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব পালন ও যশোরের পিছিয়ে পড়া খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বপন ভট্টাচায্য বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে অধিকাংশ কাজ করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর আস্থা রেখেছেন, এটা আমার সৌভাগ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে চাই।
তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে শহরের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করবো। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থারউন্নয়ন তরান্বিত করা হবে। মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চাই। গ্রামের মানুষের সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, আমি শুধু যশোরের প্রতিমন্ত্রী নয়, সারাদেশের মানুষের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো। তবে যশোরের মানুষ হিসেবে, এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে অগ্রাধিকার দিবো। এক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য, যশোরের সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের সঙ্গেও আলোচনা করবো। সবার মতামতের ভিত্তিতে পিছিয়ে পড়া খাতকে এগিয়ে নিতে উন্নয়ন করা হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আপনার অনুভূতি কি জানতে চাইলে স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আমি খুব খুশি। আমার যশোরবাসীও খুশি হয়েছে। প্রত্যেক রাজনীতিবিদ মূল্যায়ন চাই। আমারও প্রত্যাশা ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো। সারাদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। কাজের মাধ্যমে যোগ্যতার সাক্ষর রাখতে চাই। এজন্য যশোরবাসীসহ সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

স্বপন ভট্টাচার্য্য : ১৯৫২ সালের ২৭ফেব্রæয়ারি উপজেলার পাড়ালা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের জন্ম গ্রহন করেন । বাবা মৃত সুধীর ভট্টাচার্য্য ও মা মৃত ঊষা রানী ভট্টাচার্য্য’র চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে মেঝ ছেলে তিনি। স্বপন ভট্টাচার্য্য ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। তার বড় ভাই পীযুষকান্তি ভট্টাচার্য্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য। ২০০৯ সালে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন স্বপন ভট্টাচার্য্য। উপজেলাবাসীর কাছে নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরুপ শ্রেষ্ঠ উপজেলা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান টিপু সুলতানকে পরাজিত কওে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বপন ভট্টাচার্য্য।
দীর্ঘ ৩১ বছর পর মণিরামপুর থেকে স্বপন ভট্টাচার্য্য এলজিআরডি (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়) মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শাসনামলে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান বর্তমান বিএনপি’র শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস।