তৃণমূলের অবহেলিত মানুষের সঙ্গে থাকবো’

প্রতিবেদক, যশোর : জেলার ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ৩১ মার্চ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভবিষৎ কর্মপরিকল্পনা ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, বিগত দিনে ঝিকরগাছায় আওয়ামী লীগের নেতাকমীরা নির্যাতিত হয়েছে। সেই মানুষগুলো শান্তির পক্ষে আমাকে ভোট দিয়েছে। সেই কারণে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক নির্মূলে আমি কাজ করবো। আধুনিক মডেল উপজেলা গড়বো। এজন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক উন্নয়নের কাজ করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ‘ গ্রাম হবে শহর’। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করবো।
জনগণের কাছে ভোট চাইতে গিয়েছি। দেখেছি এখনও অনেক জনপদ অবহেলিত আছে। আমাদেও সাবেক এমপি মহোদয় বলেছেন ‘ ৩৭ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, সেটি তার আমলে হয়েছে। তার সেই কথা সঠিক নয়। ’ যেমন শংকরপুর ইউনিয়নে অনেক অবহেলিত গ্রাম আছে। শিমুলিয়া, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের অনেক রাস্তা কাচা রয়েছে। তবে সাবেক এমপি সাহেবের এলাকা বাঁকড়া-হাজিরবাগ এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে। আঞ্চলিকতার কারণে তার (সাবেক এমপি) এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে। অন্য এলাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। আমি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন বৈষম্য করবো না।
সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল আমাকে নির্বাচিত করেছে। মানুষ আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়েছে। তাদের ঋণ কিভাবে শোক করবো জানি না। যত দিন রাজনীতি করবো তৃণমূলকে ভুলতে পারবো না। তাদের পাশে থাকবো। আমি সর্বাত্মকভাবে তাদের পক্ষে কাজ করবো। বিশেষ করে অবহেলিত, বৈষম্যের শিকার তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে থাকবো। তাদের উন্নয়নে কাজ করবো।
দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জনগণের কাছে গিয়েছি। তারা আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দলের কোন নিষেধাজ্ঞা ছিল না। দেশের কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভোটের দুইদিন আগেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তৃণমূলের ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী।’ গোপালগঞ্জে কিন্তু নৌকার কোন প্রার্থী ছিল না। আমাদের কোন সতর্ক করা হয়নি। এমনকি বহিস্কারের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি দলের প্রার্থী। দলেই আছি। সবাই আমাকে ভোট দিয়েছে। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ:
১৯৬৬ সালের ৮ মার্চ ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মনিরুল ইসলাম। ১৯৭৮ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম ও রাজনীতিতে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। ১৯৭৯ সালে যশোর-২ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের পক্ষে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে অগ্রণী ভ‚মিকা রাখেন। ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে জামায়াত দলীয় প্রার্থী মকবুল হোসনে তাঁর প্রচার মাইক ভাঙ্গার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মনিরুল ইসলামকে আসামী করে মামলা করেন।
স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ঝিকরগাছা উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন মনিরুল ইসলাম। ১৯৯১ সালে ঝিকরগাছা বাজারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল সংঘর্ষে বোমার আঘাত প্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে ঝিকরগাছায় যুব সমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০০০ সালের বন্যার সময় ঝিকরগাছা ও শার্শা এলাকা প্লাবিত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে নিয়ে ১৮৭ টি গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেয়ার নেতৃত্বে ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ জোট সরকারের দমন নিপীড়নের সময় মামলা হামলায় জর্জরিত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন।
২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ঝিকরগাছা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঝিকরগাছায় জামায়াত বিএনপির তান্ডব রুখে দিয়েছিল মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ। সে সময় ৬টি ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আসামীও হন তিনি। ২০০৭ সালে জরুরী অবস্থার মধ্যেও তার নেতৃত্বে জাতির পিতার শাহাদাৎবার্ষিকী পালন ও কাঙ্গালী ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে জরুরী অবস্থার মধ্যেও মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০ হাজার নেতাকর্মীর স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচী পালিত হয়।ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল ও রঘুনাথনগর স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সর্বচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত মনিরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের বারবার নির্বাচিত সভাপতি , উপজেলা ও জেলা যুবলীগের সদস্য, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবেও মনোনয়ন পান তিনি। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মুছা মাহমুদ মাঠে থাকায় পরাজিত হন মনিরুল ইসলাম।