‘ডিপ্রেশন আমাকে মেন্টালি ফিজিক্যালি শেষ করে দিছে’

প্রতিবেদক,চুয়াডাঙ্গা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজিব (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। রাজিব দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের মনিরউদ্দিনের ছেলে রাজিব বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে রাতেই চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রাজিব।
রাজিবের স্ট্যাটাসটি তার বড় ভাই দেখামাত্র বাড়িতে ফোন করে জানান। কিন্তু তার আগেই বিষপান করেন রাজিব। রাতেই রাজিবের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়।
তবে আত্মহত্যার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ রাজিবের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, যুবকের আত্মহত্যার বিষয়টি শুনেছেন তিনি।
‘এটা আমার লাইফের শেষ স্ট্যাটাস। এটা জানি কথাগুলো শোনার পর অনেকে মানতে পারবে না। আবার অনেকের কাছে ভালো লাগবে শুনে।
কিন্তু এটাই হয়ে গেছে, সময়ের কাছে বাস্তবতার কাছে আমি হেরে গেলাম। খুব ইচ্ছে ছিল আর দশজনের মতো স্বাভাবিকভাবে জীবন চালানোর; কিন্তু পারলাম না।

ডিশিসনটা আমি খুব সহজভাবে নেই নাই, আমাকে বাধ্য হয়ে নিতে হইছে। ডিপ্রেশন আমাকে শেষ করে দিছে। মেন্টালি ফিজিক্যালি কোনোভাবেই আমি ভালো নেই।

স্বপ্ন ছিল অনেক কিন্তু সেটা পূরণ করতে পারলাম না। তার আগেই চলে যেতে হলো আমাকে। মাফ করে দেবেন সবাই। বড় ভাই-ভাবি, মেজ ভাই, ফ্রেন্ডস কারও সঙ্গে যদি কখনও অন্যায় করে থাকি, তা হলে ক্ষমা করে দিয়েন সবাই।

আর ফ্যামিলির কথা কী বলব। যদিও সবাই ভুলে যাবে কিন্তু ফ্যামিলি কখনও ভুলবে না। বাবা-মা, ভাই সবাই আমাকে মাফ করে দিয়ো। ভালো থেকো তোমরা সবসময়।

MD Sagor & Md Galib Hasan দোস্ত, তোরাই আমার লাইফে একটা বেস্ট পার্সন ছিলি। সব সময় আমাকে সাপোর্ট করতি, ভালো উপদেশ দিতি। কিন্তু আমি শুনি নাই। আজকে যদি তোর কথাগুলো শুনতাম তাহলে আর এইদিন দেখতে হতো না আমার। ভালো থাকিস সব সময়। নিজের খেয়াল রাখিস আর আমাকে মাফ করে দিস দোস্ত।

ভালো থেকো প্রিয় মা-বাবা। ভালো থেকো প্রিয় মানুষ। ক্ষমা করে দিও আমায়…!!

সবশেষ একটা কথা বলে যাই- আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, ভালো থাকবেন সবাই আল্লাহ হাফেজ।’

তবে কী কারণে রাজিব আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় একটি মেয়ের সঙ্গে রাজিবের সম্পর্ক ছিল। তবে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কিনা তা জানা যায়নি।

এদিকে রাজিবের আত্মহত্যার খবর শুনে মেয়েটি হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে মেয়েটি দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তবে কী কারণে মেয়েটি হারপিক খেয়েছেন সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।