‘ছেলেধরা’ গুজবে যশোরে গণধোলাই, আতংক

ব্যুরো রিপোর্ট: যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শায় মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপরিচিত লোকজনের এলোমেলো চলাফেরা দেখলেই ছেলেধরা সন্দেহে গণধোলাই  দিচ্ছে এলাকাবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে ।  যদিও পুলিশ বলছে, ছেলেধরা নিছক গুজব। আর যদি তারা ছেলেধরা হয়েও থাকে, এভাবে মারপিট করা ঠিক না। তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জাননো হয়েছে।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আনছার উদ্দিন বলেন, কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। এলাকার লোকজন অপরিচিত ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের দেখলেই ‘ছেলেধরা’ গুজবে গণধোলাই দিচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোন সত্যতা মেলেনি। এবিষয়ে সচেতনতার জন্য ঝিকরগাছার ওসিকে মাইকিং করতে বলেছি। যশোরে কোথাও রোহিঙ্গা কিংবা ছেলেধরার কোন ঘটনা ঘটেনি। গুজব না ছড়িয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহŸান জানাচ্ছি। সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই মারপিট নয়, পুলিশে খবর দিন।

জানা যায়, কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় গুজব ছড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গারা শিশু অপহরণ করছে। এটা নিয়ে অভিভাবকরাও আতংকিত। এই আতংকের মধ্যে এলাকায় কোন অপরিচিতি লোককে এলোমেলো চলাফেরা করতে দেখলেই গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সকালে বেনাপোল মাছ বাজার এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে মারপিট করে এলাকাবাসী। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। একই দিন ঝিকরগাছার জননী সুপার মার্কেট এলাকায় এক যুবককে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পারবাজার এলাকায় অপর এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে মারপিট করা হয়। বুধবার রাতে শ্রীরামপুর গ্রামে ও নওয়াপাড়া গ্রামে দুই মহিলাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এছাড়াও মঙ্গলবার বিকেলে বেজিয়াতলা গ্রামে এক ব্যক্তিকে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা। ছেলেধরা ও রোহিঙ্গা অপহরণকারী গুজবে এলাকায় এইসব অপরিচিত লোকদের এলোমেলো চলাফেরা করতে দেখে গণধোলাই দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক আরও বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।
গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক। ঝিকরগাছা থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার জনসচেতনামূলক পোস্ট দিয়েছেন ওসি। তিনি উল্লেখ করেন, স¤প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে কতিপয় লোক শিশু পাচারকারী/রোহিঙ্গা বলে অভিহিত করে মানসিক ভারসম্যহীন অজ্ঞাতনামাদের মারপিট করে এলাকায় গুজব সৃষ্টি করছে। এতে সাধারণের জনমনে ভীতি প্রদান করছে। শিশু পাচারকারী দলের সদস্য আটক হয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে হাজির হয়। বিষয়টি সম্পর্কে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায় নাই। শিশু হয়েছে, এমন কোন ব্যক্তি লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ কেউ করেনি। কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব সৃষ্টি করে অহেতুক জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সঠিক তথ্য প্রমাণ ব্যতিত গুজব সৃষ্টি না করে ঘটনা সংক্রান্তে কোন ব্যক্তির অভিযোগ থাকলে অভিযোগ দায়ের করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। অভিযোগ প্রাপ্তির সাথে সাথে তাৎক্ষনিক বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।