রোজার স্মৃতিচারণে ববিতা

ব্যুরো রিপোর্ট: ছোটবেলার রোজার স্মৃতিগুলো খুব মধুর। প্রতি বছরই তো রমজান মাস আসে। আমি রোজাও রাখি। কিন্তু ছোটবেলার রোজার স্মৃতিগুলো কখনোই ভুলবার নয়। যদিও সে সময় সবগুলো রোজা রাখতে পারতাম না।

তবু রোজার রাখার আগ্রহ এবং বান্ধবীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে রোজা রাখার যে আনন্দ এখন সেগুলো খুব মনে পড়ে। আমার মনে আছে, আমি ছোটবেলায় রোজা রাখতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো। কিন্তু আবার এটাও ভাবতাম যে, আমার বান্ধবীরা রোজা রাখছে আমি যদি না রাখি কেমন হয়?

সে জন্য কষ্ট করে রোজা রাখার চেষ্টা করতাম। বেশি কষ্ট হলে পুকুরে ডুব দিয়ে পানি খেতাম। এটা কেউ দেখত না। সবাই তো মনে করত আমি রোজা রেখেছি। আবার আরেকটি বিষয় আমি কখনও ভুলব না। আমার রোজা রাখতে কষ্ট হতো বলে মা বলতেন, ‘তুই প্রথম রোজা ও শবে কদরের রোজা আর শেষের রোজা রাখ। এতেই হবে।’ আমি মনে মনে বলতে লাগলাম, ‘রোজা তো তিনটা। তিনের সঙ্গে একটা শূন্য বসিয়ে দেব তাতেই ত্রিশ রোজা হয়ে যাবে।’

এই যে ছেলেমানুষি, এগুলো এখন খুব মনে পড়ে। আমাদের সময়ের এসব মজার কাণ্ডকারখানা এসব এখনকার প্রজন্মের কারও মধ্যে দেখতে পাই না। বার বার মনে চায় শৈশবে ফিরে যাই। এটাও তো সম্ভব নয়। তাই প্রতি বছর যখন রমজান মাস আসে পেছনের কথা মনে পড়লে হাসি আবার কষ্টও পাই। কত মধুর ছিল আমাদের শৈশবের রমজান মাসের সেসব দিন!। -সূত্র: যুগান্তর

যশোরের মেয়ে ববিতা:

ফরিদা আক্তার পপি (ববিতা নামে পরিচিতা) বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং প্রযোজক। নিজের অভিনয় দক্ষতার ববিতা শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সু্খ্যাতি অর্জন করেছেন। ৩০ জুলাই ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃত নাম ফরিদা আখতার (পপি)। পিতার চাকুরী সুত্রে জন্ম বাগেরহাটে হলেও তাঁর পুরো শৈশব এবং কৈশোরের কিছু অংশ কেটেছে যশোরে। ববিতার মা পেশায় একজন ডাক্তার ছিলেন। বড় বোন সুচন্দা, ছোট বোন চম্পা এবং ভগ্নিপতি প্রয়াত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। ছোট বেলায় ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বড় বোন সুচন্দার হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন ববিতা। বর্তমানে তিনি গুলশানে বসবাস করছেন। একমাত্র ছেলে অনীক কানাডায় পড়াশোনা করে।