যশোরে শহীদ সাংবাদিকের মেয়ের জন্মদিনে আবেগঘন স্ট্যাটাস

বার্তাকক্ষ: যশোরের শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের ছোট মেয়ে প্রণতি রহমানের জন্মদিন ছিল আজ। জন্মদিনে বাবার শূণ্যতার অনুভূতির স্মৃতিচারণ করে ফেসবুকে আবেগগন স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রণতি রহমান। প্রথিতযশা সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে জনকণ্ঠ যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এখন হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

তোমাকে নিয়ে কিছু লিখতে গেলে অনেক সাহস এর দরকার বাবা।।
যখন ছোট ছিলাম, আমাকে বলা হয়েছিলো ” প্রনতি তোমার বাবা আল্লাহ্‌’র কাছে গেছেন। সেখানে অনেক ভাল আছেন।”
তখন আমি বলতাম, ” কবে আসবে আমার বাবা?”
আমাকে কিছু না বলে সবাই চুপ করে থাকতো… তারপর আস্তে আস্তে একটু বড় হওয়ার পর বলতো, ” বাবা অনেক দূরেতো, আর আসতে পারবে না। আল্লাহ্‌ বাবা কে অনেক ভালবাসে, তাই রেখে দিয়েছেন বাবা কে সেখানে। “
কিন্তু আমার অনেক রাগ আর কষ্ট হোতো। আমি অজান্তে, না বুঝে কত যে আল্লাহ্‌ কে বকা দিয়েছি.. আমি রাগ করে থাকতাম, বুঝতাম না, আমার কাছে আল্লাহ্‌ ভাল ছিলো না। শুধু বলতাম, ” আল্লাহ্‌, বাবা কে এনে দেও, তাইলে আমি ভাববো তুমি ভাল”..


ছোট থেকে আমার ছিলো ছবির বাবা… ছবির সাথে একা একা কথা বলা, লুকিয়ে একা একা ছবি বুকে জড়িয়ে কান্না করা আর ছবিকেই অনেক বকা দেওয়া যে, ” বাবা আসোনা কেন? “
আমার প্রতিটা জন্মদিনেই আমার একটাই চাওয়া ছিলো, ” বাবা কে আমার চাই, বাবা আসবে না কি সত্যিই?” আর এভাবে ছবি সামনে নিয়েই কেক কাটতাম.. বাবার ছবিকে বলতাম, ” বাবা কেক খাও..”

কিহ বোকা ছিলাম আমি! ছবি নিয়ে বলতাম, ” আমি আর বাবা একা একা কেক খাবো, কাওকে দেবো না.. “
আস্তে আস্তে বাড় হয়ে বুঝলাম সবকিছু যে বাবা আর ফিরবে না কখনও..
আজ দেখো বাবা, ১৯ টা বছর কেটে গেলো
সব আছে তুমি নেই
তুমি যেখানেই থাকো, ভাল থেকো.. আজ ও আমার কান্না পাই বাবা, আজ ও আমি ভাবি তুমি আমার সাথে কেন নেই.. । 

সূত্র: লেখা ও ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।