আষাঢ়ের তাপদহে পুড়ছে যশোর (ভিডিও)

ব্যুরো রিপোর্ট:  আষাঢ় মাস নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, নীল নবঘনে আষাঢ় গগণে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর, আউশের ক্ষেত জলে ভরভর, কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিয়ে দেখ চাহি রে। বিশ্ব কবির সেই কথাগুলো যেন ফিকে হতে চলছে। আষাঢ় মাসের পাঁচ দিন পার হলেও যেন চৈত্রের খরতাপে পুড়ছে চারপাশ। যশোরে কয়েকদিনের তীব্র গরমে জনজীবন নাকাল। কোথাও স্বস্তি মিলছে না।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য মতে, রোব ও সোমবার দেশের মধ্যে যশোরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯.৬ ও ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। মঙ্গলবার তাপমাত্রা কিছুটা নেমে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। বুধবারও তাপমাত্র বেশি রেকর্ড করা হয়। খাঁ খাঁ রোদে পুড়ছে গোটা যশোর অঞ্চল। সকাল থেকেই সূর্যের বিকিরণে মধ্যবেলায় প্রকৃতি নেয় অগ্নিরূপ। কৃষি ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রাণিক’ল। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও স্কুলগামী শিশুরা। জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। গরমে বিশুদ্ধ পানি ও শিশুদের বাড়তি পরিচর্যার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
যশোরের সদরের আইডিইবি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন বলেন, তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশুরা। স্কুলে উপস্থিতির হার তুলনামূলক কমেছে।
যশোর সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ আষাঢ় মাসের ৫দিন। একটুও বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির অভাবে আমন মৌসুম পিছিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারছে না। ধান চাষে ব্যাঘাত হচ্ছে। ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কায় কৃষি বিভাগও। এছাড়াও পাটের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। সবজির উৎপাদনও কম হচ্ছে। সাধারণত ৩০ ডিগ্রির উপর তাপমাত্রায় সবজির উৎপাদন কমে যায়।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, তাপমাত্রার এ ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলার পাশাপাশি নানা রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, লবণ পানির সরবত বা ডাবের পানি খাওয়া ও শিশু এবং বয়ষ্কদের বাড়তি পরিচর্যা দেয়ার কথা জানান।