নানা সংকটে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রতিবেদক, ঝিকরগাছা: যশোরে ঝিকরগাছা উপজেলার ৫০শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সেবা নিতে আসা মানুষ। চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তার ৯২ জনের মধ্যে আছে ৫১টি পদখালি। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ১৯ টি পদের মধ্যে ৮টি খালি। শুধু জনবল নয় যন্ত্রপাতিরও সংকট রয়েছে। এতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), মেডিকেল অফিসার পদে ৬টির মধ্যে ৪টি খালি আছে। ১১টি ইউনিয়নে এমও পদের ৭টি খালি। খাতা কলমে ৪জন থাকলেও ২জন ঢাকায় আছেন। এছাড়াও নার্সিং সুপারভাইজার ১টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১টি, পুষ্টিবিদ ১টি, ক্যাশিয়ার ১টি, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ডেন্টাল) ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফার্মাসিষ্ট) ২টি, ষ্টোর কিপার ১টি, সহকারী সেবক (সেবিকা নার্স) ১টি, স্যাকমো ১টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩টি, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৪টি, স্বাস্থ্য সহকারী ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। সবমিলে ৯২ জনের মধ্যে আছে ৫১ জন পদখালি। আর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ১৯ জনের মধ্যে আছে ১১জন। সুইপার একাধিক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১জন। শুধু জনবল নয়, যন্ত্রপাতি সংকটও রয়েছে প্রকট। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটিও ২০ বছরের পুরনো।

ঝিকরগাছা উপজেলার ৫০শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আশা ৬৫ উর্দ্ধে বয়সী বৃদ্ধা পানিসারা গ্রামের আব্দুল গফফার ও বাঁকড়া খোসালনগরের খোরশেদ আলম বলেন, চিকিৎসক কম থাকায় আড়াই ঘন্টা ধরে লইনে দাঁড়িয়ে তারপর সিরিয়াল পেয়েছি। সেই সকাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বসে আছি। এখন দুপুর হয়ে গেছে। যে পরিমান রোগীর চাপ হয়েছে। আমাদের চিকিৎসা নেওয়াটা দায় হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্ম্পকে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জরুরী বিভাগে ২জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও এখানে আছে ১জন। রোগীর ব্যাপক চাপ। জনবল সংকট। তবুও কার্যক্রমের জন্য জরুরী বিভাগে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি।
পরিসংখ্যানবিদ মাহাবুবুল হক বলেন, আমরা নেই এর মধ্যে পড়ে আছি। তার মধ্যেও এখান থেকে জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), সহকারী কাম হিসাব রক্ষক এ দুই জনের বদলি আদেশ হয়েছে। ওই পদে লোক না থাকায় তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পারিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার শরিফুল ইসলাম জানান, জনবল সংকট থাকলেও সাধ্যমত সেবা দিচ্ছি। বর্তমান যে চিকিৎসকগণ আছেন তাদের প্রতিনিয়ত ১০০-১৫০জন রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকরাও খুব কষ্টে রয়েছেন। অচিরেই এ অবস্থা সমাধান হবে বলে আশাবাদি।