শার্শা খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে সিন্ডিকেট, বঞ্চিত প্রকৃত কৃষক

প্রতিবেদক, বেনাপোল : যশোরের শার্শা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা সরাসরি তাদের ধান বিক্রি করতে পারছে না। দালালের মাধ্যমেই এখানে ধান বিক্রি হচ্ছে। ফলে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত কৃষক। শার্শা উপজেলায় গত ২৬ মে থেকে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ক্রয় করা হবে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, আমার দায়িত্ব শুধু প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা তৈরি করা। সেই হিসাবে আমি ৯ ধাপে প্রায় ৩ হাজার দুইশো কৃষকের তালিকা খাদ্য অফিসে পাঠিয়েছি। উপজেলায় ৬৫২ মেট্রিকটন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫০ মেট্রিকটন ধান ক্রয় হয়েছে। করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইন্দ্রজিৎ সাহা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান ও নিরাপত্তা প্রহরী হারুনের সহযোগিতায় প্রতি ইউনিয়ন থেকে কয়েকজন ধান ব্যবসায়ী (আড়ৎদার) ও সরকারি দলের প্রভাবশালী কিছু লোকের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা কৃষকদের মিথ্যা কথায় ম্যানেজ করে তাদের ভর্তুকির কৃষক কার্ড সংগ্রহ করছে। কৃষকের নিকট থেকে কম মূল্যে ধান কিনে ওই কৃষক কার্ড ব্যবহার করে সরকারি খাদ্য গুদামে মণ প্রতি ১ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছে।
কার্ড প্রদানকারী সহজ সরল কৃষকদের ওই সিন্ডিকেট শান্ত্বনা স্বরুপ দিচ্ছে ৩০০/৩৫০ টাকা। সিন্ডিকেটের বাইরে কোন কৃষক ধান বিক্রি করার জন্য খাদ্য গুদামে গেলে কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিচ্ছে ধান কেনা শেষ হয়ে গেছে।
শার্শা উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬৫২ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে তালিকাভূক্ত কৃষকদের নিকট থেকে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি ধান কেনার কথা। একজন প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান কেনার বিধান থাকলেও এ দফতর ঘোষণা দিয়েছে প্রতি কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ১৫ মণ ধান কেনার। সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকের দ্বারে দ্বারে গিয়ে। কিন্তু দফতরের কর্তা ব্যক্তিরা তা মানছে না।
কৃষকরা বলছেন, তালিকাভুক্ত কোন কৃষক ধান নিয়ে গেলে এ ধানে ময়েশ্চার বেশি, চিটা আছে বলে ফেরত দিচ্ছে। অথচ কৃষক ওই একই ধান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমা দিলে নিচ্ছে। সিন্ডিকেট সদস্যরা অফিসের সহযোগিতায় বাজারের কৃষকের নিকট থেকে সাড়ে ৫’শ টাকা দিয়ে হীরা ধান কিনে কোন প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সরকারী গুদাম ভর্তি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, সরকার ঘোষণা করেছে যে সকল কৃষকের ভর্তুকির কার্ড আছে তাদের নিকট থেকে ১০৪০ টাকা মণ দরে ধান সংগ্রহ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী অফিসে গেলে লেবার ও কর্মকর্তারা বলে ধান নেওয়া শেষ হয়ে গেছে। তাই ফিরে যেতে হল। ধান দিতে পারি নাই। কিন্তু এখনও ধান নিচ্ছে।
তারা আরো জানান, খাদ্য অফিসের লোকজন ও দালালের মাধ্যম ছাড়া ধান বিক্রি হচ্ছে না। যাদের কোন জমিজমা নেই তাদেরও ভর্তুকির কার্ড আছে। এই কার্ড এক শ্রেনির লোক সংগ্রহ করে ধান দিচ্ছে।
গত ১৩ জুন শার্শা উপজেলা মাসিক সভায় একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।