যশোরের ‘আরমান আলী মধুশিকারী’ দাবি তৃতীয় স্ত্রীর

ব্যুরো রিপোর্ট: যশোরে আরমান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, স্ত্রীদের নির্যাতন করে টাকা আদায়, জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে আরমান আলীর তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তার প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। তার দাবি, ‘আরমান আলী মধুশিকারী। মধু খাওয়া শেষ হলে তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদা আক্তার দাবি করেন, ‘২০১২ সালে যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে আরমান আলীর সাথে তার পরিচয় হয়। নিজের স্ত্রী থাকার তথ্য গোপন করে ওই বছরই আরমান তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি করাননি। এরপর ২০১৭ সালে আরমান তাকে জোরপূর্বক সৌদিআরবে কাজ করতে পাঠান। যেতে রাজি না হলে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।’
তিনি বলেন, সৌদিআরবে যাওয়ার পর সেখানে আয় করা তিন লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস স্বামীর কাছে পাঠাতেন তিনি। দেশে ফেরার পর চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আরমান তাকে তার রেলগেটের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ২৮ এপ্রিল আরমান তাকে পুনরায় রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন। এজন্য তাকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও দুই ভরি স¦র্ণালংকার দিতে হয়। আরমানের বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন, তার আরও ৫জন বউ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদা আক্তার আরো বলেন, ‘একাধিক বউ নিয়ে আরমানের সাথে ঝামেলা শুরু হলে গত ২০ জুন আরমান ও তার মা তাকে মারপিট করেন। এছাড়া হত্যার হুমকি দিয়ে তালাকনামায় জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।’
তিনি জানান, একদিকে টাকা পয়সা খুইয়ে তিনি নিঃস্ব, অপরদিকে মোবাইলফোনে স্বামী কর্তৃক হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তবে, আরমান আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বলছেন নাহিদার বিরুদ্ধে বরং ৫টি বিয়ের অভিযোগ রয়েছে।