মোংলায় অবৈধভাবে বালু বিক্রি করছে বন্দরের এক কর্মচারী !

কাজী ওমর ফারুক, মোংলা:  নাব্যতা রক্ষায় উত্তোলন করা মোংলা ঘসিয়া খালী চ্যানেলের খনন করা বালু অবৈধভাবে বিক্রি করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বিরুদ্ধে। মোংলা ঘসিয়াখালী চ্যানেলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরকারী অর্থায়নে নিয়মিত ড্রেজিং কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। প্রথমে এ চ্যানেলে খনন করা বালু ও মাটি ফেলা হয় পার্শ্ববর্তী নদী সংলগ্ন জমিতে। পরে বালু ফেলার জায়গা সংকুলন না হওয়ায় বিআইডব্লিটিএ থেকে ফ্রি বালু মাটি নেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ।
অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে এই বালু মোংলার অর্থনৈতিক অঞ্চলে(বেজায়) ফেলে ৬৬লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মোংলা বন্দরের ট্রাফিক শাখায় কর্মরত সহকারি ট্রাফিক পরিদর্শক এনামুল হক।
মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে নিয়োজিত শিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামার জানি এর মালিক মাহবুবুর রহমান জানান, সম্প্রতি এনামুল হক নিজেকে একজন ড্রেজার ব্যবসায়ী দাবি করে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিচু জায়গা ভরাটের জন্য প্রতি ফুট দুই টাকা হারে মৌখিক চুক্তি করেন তাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে। এরপর তিনি বালু ভরাট করা শুরু করে একই সাথে বিল নিতে থাকেন। গত ৪জুলাই পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ লাখের অধিক ঘনফুট বালু ভরাট করেছে ।পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি অবগত হয়েছেন বন্দরের এনামুল প্রতারণার মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর ফ্রি বালু তাদের কাছে বিক্রি করছেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান- বালু ফেলে বন্দরের কর্মচারী এনামুল প্রায় ৬৬লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। তড়িত বাকি টাকার জন্য ধর্ণা দিচ্ছেন।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটি এর ড্রেজিং প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরের কর্মচারী এনামুল হকসহ তিন ব্যক্তি আমাদের দপ্তরে সাদা কাগজে লিখিত আবেদন করেন ফ্রি বালু দ্ধারা বেজার নিচু এলাকা ভরাটের জন্য। এরপর আমাদের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষ একটি প্যাডে লিখিত আবেদন করতে বলেন । পরে তারা একটি প্যাডে আবেদন করার পর আমরা বালু ভরাট করি। লেন দেনের বিষয়টি আমাদের জানা নাই।
অভিযুক্ত এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমার ক্ষমতা আছে তাই আমি টাকা নিয়েছি । বিআইডব্লিটি এর কর্মকর্তা, মেসার্স কামার জানি ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক আনন্দ বাবু, দুজন মিডিয়া কর্মীসহ ৯জনকে ভাগও দিয়েছি।
এ বিষয়ে শিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশের বাহিরে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।
তবে এর মাকেটিং ম্যানেজার জয়সন স্টিফারকে ফোন করা হলে তিনি খোঁজ নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে আর ফোন দেন নাই ।