যশোরে মাছ উদ্ধৃত্ত প্রায় দুই লাখ মেট্টিক টন

ব্যুরো রিপোর্ট: যশোর জেলায় চাহিদার তুলনায় চার গুণের বেশি মাছ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে। রুই, কাতল, মৃগেল, বাগদা, বাগদা, গলদাচিংড়ি, পাঙ্গাস, শিং, মাগুর ও কৈ মাছ জেলার চাহিদা পূরণ করে এক লাখ ৭৮ হাজার মেট্টিক টন উদ্বৃত্ত রয়েছে। উৎপাদিত মাছ দেশ ও বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধুমাত্র রাজস্ব আয় হয়েছে দশ লাখ ২৪হাজার ৫০০টাকা। বুধবার সকালে যশোর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, যশোরে মাছের মোট চাহিদা ৬০হাজার ৫৬১ মেট্টিক টন। মাছ উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজার ৫৮৮ মেট্টিক টন। যা চাহিদার তুলনায় এক লাখ ৭৮ হাজার ২৭ মেট্টিক টন বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৪২০ মেট্টিক টন ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুই লাখ ২৪ হাজার ৭৬৭ মেট্টিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এবছর ৬৮ দশমিক ৭১ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। জেলায় রেনু পোনার চাহিদা রয়েছে ১৫ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত রেণু পোনা দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদার পূরণ করছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, সারাদেশে মাছ উৎপাদনে যশোর জেলার অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়। মাছ চাষ ও রেনু পোনা উৎপাদনে এ সাফল্য অব্যাহত থাকলে অচিরেই মাছ উৎপাদনে শীর্ষ স্থান অর্জন করবে যশোর জেলা। যশোরে স্থাপন করা হচ্ছে মাছের পোনার আধুনিক বিক্রয় কেন্দ্র। এছাড়া রুই মাছের জাত উন্নয়ন, বাওড়ের রুই জাতীয় মাছের ব্রান্ডিংকরণ, রুই জাতীয় মাছের গুনগতমানের রেনু উৎপাদন নিশ্চিত করা, দেশিয় প্রজাতির ছোট মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর জন্য মৎস্য হ্যাচারিতে পানির রিসাইক্লিন পদ্ধতি সম্প্রতারণ, নিরাপদ মৎস্য খাদ্য ও নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং রোগ সনাক্তকরণ এবং বিষাক্ততা পরীক্ষণ ল্যাব স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে যশোরের মাছচাষিদের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের বৃহত্তর যশোর জেলা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক হরেন্দ্রনাথ সরকার, উপ পরিচালক মাহাবুবুর রহমান, সহকারী পরিচালক এসএম আশিকুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব প্রমুখ।