ঝিকরগাছায় হাউব্রিডের অত্যাচারে নাকাল আ. লীগ সভাপতি আবদুল খালেক !

ব্যুরো রিপোর্ট: হাইব্রিড নেতাদের অত্যাচারে নাকাল যশোরের ঝিকরগাছার নির্বাসখোলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল খালেক। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে ভোট করায় দলের একাংশের নেতাদের ইন্ধনে এলাকার নব্য আওয়ামী লীগার (হাইব্রিড) মাহাবুর রহমান, রিয়াজুল ইসলাম ও ইবাদ আলী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল খালেক।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি আবদুল খালেক মাস্টারের সঙ্গে মাহাবুর ও রিয়াজুলদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্ব›দ্ব রয়েছে। এটাকে রাজনীতিকরণের সুযোগ নেই। কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থে রাজনীতির রঙ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা কে কোন প্রতীকে ভোট করেছি, সেটা বড় কথা নয়। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী। কিছুদিন আগেও নির্বাসখোলা ইউনিয়নে আবদুল খালেক মাস্টারকে নিয়ে এমপি মহোদয়ের উপস্থিতিতে সভা করেছি। আমাদের মধ্যে কোন দ্ব›দ্ব নেই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুল খালেক বলেন, আমি ৪০ বছর ছয় মাস প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। ২০১৫ সালে নির্বাসখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। নিরলসভাবে পরিশ্রম করে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছি। আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে কোন দিন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছি। কিন্তু নৌকা মার্কার প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় আমাকে হুমকি ও মিথ্যা অভিযোগে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতি করছে দলীয় প্রতিপক্ষ। এলাকার মৃত আদাল মোড়লের ছেলে মাহাবুর রহমান আদম ব্যবসায়ী। বিএনপি আমলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা এলাহী টিপুর আস্থাভাজন হয়ে এলাকার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নির্যাতন ও হয়রানি করেছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে রমজান শরীফ বাদশার আস্থাভাজন হয়েছিল। বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের আস্থাভাজন হয়েছে। এই পরিবারের নির্দিষ্ট কোন দল নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তারা তখন সেই দলের কর্মী হয়ে যায়। মাহাবুর রহমানের বাড়িতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড রেখে দিয়েছে। টাকার জোরে নেতাদের কাছে চলে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকার রাজার ডুমুরিয়া গ্রামের বিএনপির ক্যাডার সাবেক ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম ও তার ভাই যুবদল নেতা ইবাদ আলী নানাভাবে আমাকে ও আমার ছেলে আরিফুর জামানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মাহাবুরের ইন্ধনে গ্রামের নবীছদ্দিন গাজীর ছেলে নুরুল হক ঝিকরগাছা থানা ও শিওরদাহ পুলিশ ক্যাম্পে আমার ও আমার ছেলে বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করছে। আমার গ্রামের বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোন ক্রেতা আসলে তাদের দোকানে বসতে নিষেধ করছে সাঙ্গপাঙ্গরা। দোকানের ঘর মালিককে আমার কাছে ঘরভাড়া না দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এলাকার সন্ত্রাসীদের হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে শীর্ষ জনপ্রতিনিধিকে জানালেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল খালেক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাহান আলী, মোজাফফর হোসেন, আরিফুর জামান, মিলন হোসেন, নজরুল ইসলাম, আবদুল লতিফ, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।