‌ ‘ভোট ভোট খেলায় অচল’ যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা

ব্যুরো রিপোর্ট:  ক্রিকেট ছাড়া যশোরে নেই কোন খেলাধূলা। সেটিও অনিয়মিত। ফুটবল, হ্যান্ডবল, হকি, ভলিবল, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন নেই। সম্ভাবনার এইসব খেলাধূলা নিয়ে যেন ভাবারও কেউ নেই। জেলার খেলোয়াড়দের অভিভাবক যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা। সেই সংস্থাটি নিজেই নেতৃত্ব সংকটে। আধিপত্য বিস্তারের মরিয়া দুইপক্ষ। নানা মেরুকরণে বিলম্বিত হচ্ছে নির্বাচন। অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে।

  • এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ভোটর তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়। আদালতের নির্দেশে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। যাচাই বাছাই শেষে অচিরেই ভোটের তফশীল ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবির। তার নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মেয়াদ শেষ হবার ৯০ দিবস পূর্বে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যা করা হয়নি। এখান থেকেই শুরু জটিলতা। এ জটিলতা উত্তরণের জন্য আশ্রয় নেয়া হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। এ সংস্থার এক পত্রের মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে আহবায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)’কে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়। এই কমিটি যথা সময়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় আবারো দারস্থ হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। এবারও তারা পত্র মারফত জানান, গঠিত এডহক কমিটির মাধ্যমে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে। সে মোতাবেক নির্বাচন কমিশনার গঠন পূর্বক ঘোষিত হয় নির্বাচনী তফশিল।
ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জুলাই ছিলো জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন। কিন্তু প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিলো নানা অসংগতি। মৃত ব্যক্তির নাম যেমন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত ছিলো তেমনি ছিলো না জীবন সদস্যর নাম। যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জেলা ক্রীড়া সংস্থার জীবন সদস্য শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরীর নাম না থাকায় নির্বাচন কমিশনার, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য স্থানে ধর্ণা দিয়েও কোন সুফল পাননি তিনি। সর্বশেষ তিনি ন্যয় বিচার পাওয়ার জন্য ১৮ জুলাই যশোর বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। মামলা নং ১৬০/১৯। এ মামলার জন্য স্থগিত হয়ে যায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন।
২৯ জুলাই এ মামলার শুনানী হয়। ক্রটিপূর্ণ ভোটার তালিকা প্রণয়নে দায়িত্বশীলরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। ফলে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের নতুন তফশীল ঘোষণা, ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরীসহ যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত ও মৃত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে নিদের্শ দেন সিনিয়র সহকারী জজ তরুণ বাছাড়। পাশাপাশি মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। মামলা নিষ্পত্তির ফলে অনেকের কাছেই মনে হয়েছিলো নির্বাচনী সংকট দুর হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিঠু বলেন, বিগত কমিটি চার বছরে ক্রিকেট ছাড়া অন্যকোন খেলা ঠিকমত করেনি। তারা কোন লীগেরও আয়োজন করতে পারেনি। ওই কমিটির ব্যর্থতার কারণেই অ্যাডহক কমিটি গঠন হয়। বিগত কমিটির ব্যর্থতায় ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গঠনতন্ত্রের আলোকে দ্রুত নির্বাচন দেওয়া হোক। নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে সংগঠন পরিচালিত হলে অচলাবস্থা কেটে যাবে বলে আশাবাদী। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবীর বলেন, ক্রীড়া সংগঠকের অভাব। রাজনীতিবিদরা ক্রীড়াঙ্গনে ঢুকে গেছে। যাদের অনেকেই ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নয়। এজন্য ক্রীড়াঙ্গনে অচলাবস্থা চলছে। তিনি বলেন, মামলার কারণে সর্বশেষ নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। সেই মামলা আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। ঈদের পরে পুনরায় তফশীল ঘোষণার কথা। এখনও হয়নি। দ্রুত নির্বাচনের দাবি করছি।