যবিপ্রবতে নাটক ‘ইনডেমনিটি’ মঞ্চস্থ ‌

ব্যুরো রিপোর্ট: ‘ওয়ান বাংলাদেশে’ এর আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে মান্নান হীরা রচিত নাটক ‘ইনডেমনিটি’। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চার টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকে অভিনয় করেছেন সজিবুর রহমান, নিশাত জাহান তন্নি, আকিব, ফেরদৌস, নিলয়, ত্রিবেদী, অনুভব, লিপি, মাহমুদ হাসান সৈকত। নির্দেশনায় কামরুল হাসান রিপন এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বিবর্তন যশোর।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দশনা দপ্তরে পরিচালক ড. মীর মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। উপাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় ছাত্রদের প্রধান লক্ষ্য থাকতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে।
তিনি আরও বলেন আজকের এই নাটক থেকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে কারা জড়িত তা তুলে ধরা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের খুব দ্রুত বিচারের আওতায় এনে বাংলাদেশকে কলঙ্ক মুক্ত করার আহবান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড.আনিছুর রহমান, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. জাফিরুল ইসলাম, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. আমজাদ হোসেন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর আলম, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মেহেদী হাসান, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, এপিপিটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড.মৃত্যুন্জয় বিশ্বাস, শেখ হাসিনা হলের সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন।

ইনডেমনিটি: বাংলাদেশের কালো অধ্যায়:-
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য এক মহা কলঙ্কের দিন, শোকের দিন। এই দিন বাংলাদেশ তথা স্বাধীনতা বিরোধী স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা মৃত্যুর নেশায় বুঁদ হয়। নির্মমভাবে হত্যা করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের। এই হায়ানাদের থেকে রেহাই পায়নি শিশু রাসেলও। বিদেশে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। এই নির্মম ঘটনা আমরা সবাই জানি।
সেইদিনের মাত্র ৪১ দিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হয় “ইনডেমনিটি” বা “দায়মুক্তি” আইন অধ্যাদেশ (যদিও তৎকালীন সাংবিধানিক আইনে প্রেসিডেন্ট কোনো অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা রাখে না) যার মাধমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচারতো দূরের কথা, ঐ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার পথও বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘৃণিতভাবে সেই হত্যাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এই অধ্যাদেশকে আরো পাকাপোক্ত করার জন্য এবং হত্যাকারীদের চিরতরে বাঁচাতে ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই জিয়াউর রহমান ৫ম সংশোধনী এনে এটাকে আইনে রূপান্তর করে।
সেই সময়ের অবৈধ সংসদের সংখ্যা গরিষ্ঠ সাংসদের দাপটে পাশ করা হয় “ইনডেমনিটি” আইন। এই আইনে আরো বৈধতা দেয়া হয় ১৫ আগস্ট , ১৯৭৫ থেকে ৯ এপ্রিল ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সকল অবৈধ হত্যা, গুম ও ক্ষমতার। জাতীয় চার নেতার হত্যা থেকে শুরু করে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা, সেপাহী, আর্মি, নৌ-অফিসারদের হত্যার বিচার থেকে বঞ্চিত হয় স্বজন ও সর্বোপরি সকল বাংলাদেশি। দেশে এই চার বছর ১০ মাস ছিল এক অন্ধকার যুগ। একজন মানুষকে খুন করা হবে অথচ তার বিচার চাওয়া যাবে না। পক্ষান্তরে খুনীরা দম্ভভরে খুনের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদায় ভূষিত হবে কোনো সভ্য দেশে এসব ভাবাই যায় না।
তবে আশার বিষয় এই যে, ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে সংবিধানের “ইনডেমনিটি” আইন বাতিল করা হয় যা দেশ ও জাতির এক ভয়ংকর কালিমা অপনোদনের দ্বার উন্মোচন করে। ইনডেমনিটির বিষয়টা এখনও অনেক মানুষের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। অনেকের কাছেই এখনো অজানা ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়টি। সর্বসাধারণের কাছে সহজভাবে ইনডেমনিটির বীভৎসতা তুলে ধরার জন্য “ওয়ান বাংলাদেশ” এর আয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিটি অঞ্চলে ২৬ সেপ্টেম্বর,২০১৯ থেকে নানাধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যার অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের ১২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ২৬ সেপ্টেম্বর,২০১৯ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় নাটক “ইনডেমনিটি” স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় মঞ্চস্থ হয়েছে।