দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণার আগে শুদ্ধি অভিযান অনিবার্য

ইন্দ্রজিৎ রায় : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করেছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন। এই ঘোষণাকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উপহার বলে উল্লেখ করেছেন। এই সংক্রান্ত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ঘোষণাটি অব্যশই প্রশংসার দাবিদার। তবে বাস্তবতার নিরিখে ঘোষণাটি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, সেটি নিয়েই প্রশ্ন। শুধুমাত্র উপাচার্য মহোদয় চাইলেই কি দুর্নীতিমুক্ত হবে বিশ্ববিদ্যালয়। ইতোমধ্যে উপাচার্যের ঘোষণার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নমত এসেছে। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হলে তাকে শুদ্ধি অভিযানে যেতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের  কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ, নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হচ্ছে বা হয়েছে, এটি নিশ্চিত করতে পেরেছেন কি?। উত্তর না। শতভাগ হয়নি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে আছে। শুধুমাত্র উপাচার্য্যের কঠোরতার কারণে তারা কৌশল বদল করেছে। ভিন্ন কৌশলে সেই পুরাতন সিন্ডিকেট নতুন আঙ্গিকে দুর্নীতিকে আলিঙ্গন করছেন।
উপাচার্যের আশপাশে যারা এখন, তাদের অধিকাংশ আগেও তৎপর ছিল। ফলে উপাচার্য চাইলেও দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য চাই শুদ্ধি অভিযান। ইতোমধ্যে আপনি নিশ্চয় অবগত হয়েছেন, আপনার কোন কোন সেক্টরে কারা কারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অথবা আপনি জানলেও সিন্ডিকেটের কারণে ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তারা বহাল তবিয়তে আছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার প্রয়াস অনেকাংশে সফল হয়েছেন। কিন্তু আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একাংশের সিন্ডিকেটমুক্ত কি হয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত ক্যাম্পাসে অন্য কোন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে, কিনা সেটি বিবেচনার সময় এসেছে। এজন্য শুদ্ধি অভিযানের বিকল্প নেই। আমার বিশ্বাস দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রচেষ্টায় যশোরের সাংবাদিক সমাজ আপনার পাশে থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক