ডাম্পিং স্টেশন, ইকোপার্ক নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে: চৌগাছার মেয়র হিমেল

ব্যুরো রিপোর্ট: যশোরের চৌগাছা পৌরসভার যাত্রা শুরু ২০০৪ সালে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ১১ দশমিক ৬৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৩৮ হাজার ৮২৫ জন। মোট ভোটার ১৮ হাজার। দ্বিতীয় শ্রেণির এ পৌরসভায় বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম সাইফুর রহমান বাবুলকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি সড়কে বাতির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। পৌরসভার আয় বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। 

পৌরবাসীর অভিযোগ, ‘শহরের ময়লা আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় কপোতাক্ষ নদে। এতে পানি দূষণের পাশাপাশি নদ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নাগরিকের বিনোদনের জন্য কোনো পার্ক নেই। সুপেয় পানি সরবরাহে পৌরসভার নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই।

রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন হয়নি। অনেক সড়কে বাতি নেই। পৌরবাসী মেয়রকে কাছে পান না। তিনি বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকেন। মেয়রের অনুপস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নাগরিক সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা করেন।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে এবং নিজের সফলতার কথা জানাতে মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল। তিনি বলেন, ‘আমার কাজের মূল্যায়ন করবে জনগণ। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার আয় বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

পৌর কর এবং হাট-বাজারের ইজারা থেকে আয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আলোকিত পৌরসভা গড়তে শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিভিন্ন সড়কে মাত্র ১৬০টি বাতি ছিল। বর্তমানে সড়ক বাতি ছয়শ’তে উন্নীত হয়েছে।

আরও আড়াইশ’ সড়কবাতি অচিরেই সংযোজনের কাজ শুরু হবে। যেখানে বিদ্যুতের খুঁটি নেই, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ দিয়েছি। এলজিইডি, সওজ বাদে পৌরসভার ৯০ শতাংশ রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। মূল বাজারের ওপর চাপ কমানোর জন্য বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছি। পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়ক কাঁচা নেই।’

ত্রুটিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘ডাম্পিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা কপোতাক্ষ নদে ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছে। ইতিমধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা নির্ধারণ হয়েছে। ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। ডিসেম্বর মাস নাগাদ শেষ হবে। এরপর ময়লা-আবর্জনা নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৌরবাসীর বিনোদনের জন্য কপোতাক্ষ নদের পাড়ে একটি ইকোপার্ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ডাম্পিং স্টেশন, ইকোপার্ক, আলোকিত পৌরসভা গড়ার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভায় কোনো দুর্নীতি নেই। সব টেন্ডার ই-জিপিতে হয়। জনগণের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অবহেলা করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

অবৈধ দখলদারিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার ছোট ৩টি খাল দখলমুক্ত করেছি। ফুটপাত দখলমুক্ত করেছি।’

নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, ‘পৌরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারিনি। এটা করতে চাই। প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে।’ জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থায় টেকসই উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে গভীর ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরসভায় কোনো জলাবদ্ধতা নেই।’

মেয়র হিমেল বলেন, ‘পৌর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ নেই। তবে মাদক সমস্যা আছে। মাদকমুক্ত করতে পারিনি। মাদকমুক্ত করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান উন্নয়নে পৌরসভার সহযোগিতা সব সময় আছে। ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা আছে।’

নিজের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মেয়র হিমেল বলেন, ‘জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেছেন কাজের জন্য। নতুন পৌরসভা হিসেবে প্রকল্প আনতে আমাকে অনেক সময় চৌগাছার বাইরে থাকতে হয়। তাই প্রয়োজনের সময় অনেকেই আমাকে কাছে পান না। আমিও তাদের মিস করি। কিন্তু কাজের জন্যই আমাকে বাইরে দৌড়াতে হয়।’