বাবা হতে আমিও চাই

সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান: আমার স্ত্রী নিরা, অনেক বার বুঝানোর পরও বাচ্চা নেয়ার ব্যাপারে আমি আগ্রহ দেখায়নি। নিরা একবার সাহসী হয়ে কনসেভ করেও আমার কাছে গোপন রাখে। একদিন আলমারি খুলতেই নিরার আল্টাসনোগ্রামের ফাইল দেখি। চারমাস চলছে, মেয়ে বাবু। কাগজপত্র গুলো ডাক্তার বন্ধু সাজেদুল দেখে বলেছিলো।
সে সময় একপ্রকার জোর করেই নিরাকে অপারেশন করিয়ে আনি। এরপর থেকে নিরা আমার কাছে অপরিচিত মানুষ হয়ে যায়। কেমন রঙহীন, প্রেমহীন, এতোদিনের উষ্ণ সম্পর্ক কেমন বরফশীতল হয়ে পড়ে। ওর চোখে মুখে আমার প্রতি অসীম ঘৃণা পড়ে নিতে পারি। নিরাকে কি ভাবে বোঝাবো? এ সমাজ কন্যা শিশুর জন্য নিরাপদ নয়! কন্যা শিশুর শৈশব, কৈশোর বৃদ্ধা সব বয়সই কামুক পুরুষের কাছে অষ্টাদশী রমণী। নিরা’র কাছে সব খুলে বলতে পারিনা, আমি নিজেও পুরুষ। আজ পুরুষ শব্দটি এতোটা লজ্জা আর অপমানের তাকি আগে কখনো ছিলো? পত্রিকার পাতায় নিজের কন্যার রক্তমাখা ছবি দেখে চিনে নেবার মত শক্ত হার্ট আমার নেই। জানি নিরা তুমিও এই নিষ্ঠুর ঘটনা সৃষ্টিকর্তার বিচার বলে সরল যুক্তিতে মেনে নিবেনা।
প্রতিদিন গভীর রাতে নিরার পাশ থেকে উঠে বারান্দায় চলে আসি। মাথার মধ্যে কতশত চিন্তা গুলিয়ে ওঠে…

মসলমানরা খাবেনা শুকরের মাংস, হিন্দুদের নিষেধ গরুতে। কিন্তু কি অদ্ভুত ; নারী মাংস সার্বজনীন। বিশেষ করে কামুক ধর্ষকের কাছে। কোন বাধবিচার নেই, সব ভেদাভেদ ম্লান করে এক হয়েছে শুধু নরমাংস গ্রহণে। কি হিন্দু, কি মুসলিম- খ্রিস্টান, বামুনঠাকুর কিম্বা হুজুর সব আজ একাকার ধর্ষক চরিত্রে। কোন গৃহ’ই বা আজ আমার কন্যার জন্য নিরাপদ! মন্দির মসজিদ সেখানেও আজ ধর্ষক বসে আছে লকলকে জিহ্বা বের করে।
আজও নিরাকে বলতে পারিনি আমার হৃদয়ক্ষরণের যন্ত্রণা। নিরার চোখ ফাকি দিয়ে আমার দু’চোখ ভিজে যায়। মধ্য বয়সে এসে, কি যে আকুলতা- বাবা ডাক শোনবার, তা নিরা বুঝবেনা। আমার মায়ের মত একটা মেয়ের বাবা হওয়ার ব্যাথায় আমিও ভিশন কাতর….