যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা: ৪৫ ক্লাবের অধিভুক্তি বাতিল

ব্যুরো রিপোর্ট:  যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধিভুক্ত অধিকাংশ ক্লাবের একই নাম। শুধু পার্থক্য বোঝাতে নামের শেষ লাল, নীল, হলুদ, সবুজ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এদের পৃষ্ঠপোষকও একই। অভিযোগ ছিল ভোটার সংখ্যা বাড়তেই এই ক্লাবগুলো খোলা হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে অধিভুক্তও (অ্যাফিলিয়েশন) হয়। অবশেষ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) এনএসসির সভায় অভিযুক্ত ৩৭টি ক্লাবের অধিভুক্ত (প্রতিনিধিত্ব) বাতিল করা হয়েছে। এর আগে এনএসসি আটটি ক্লাবকে বাতিল করেছিল। যশোরের জেলা প্রশাসক ও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ৪৫টি ক্লাবের অ্যাফিলিয়েশন বাতিলপূর্বক ভোটার তালিকা থেকে ওই ক্লাবের প্রতিনিধির নাম কর্তন করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, চিঠি এখনো হাতে পায়নি। চিঠি পাওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের স্মারক নং এনএসসি/১১৯/৫২/জেন/২১০২, তারিখ ৪/১১/২০১৯ খ্রিঃ চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র ২৮.২ অনুযায়ী অত্র পরিষদের পরিচালক (প্রশাসন) এবিএম নাসিরুল আলমকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তিনি গত ২০আগস্ট অভিযোগসমূহের সরেজমিন তদন্ত করে ১৭ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার প্রতিবেদনের আলোকেই ৩৭ ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে আগে বাতিলকৃত ৮টিসহ ৪৫টি ক্লাবের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।
বাতিলকৃত ক্লাব ও তাদের প্রতিনিধিরা হলেন- রেইনবো ক্রীড়া সংস্থা (লাল) প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান অপু, রেইনবো ক্রীড়া সংস্থা (সবুজ) সাহানা সুলতানা জামান, সৌখিন ক্রীড়া চক্র (লাল) সাফায়াত কামাল বুলবুল দিব্য, নবদিশারী ক্রীড়া চক্র (সবুজ) মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, মিতালী সংঘ (হলুদ) মোজাফফর হোসেন, আসাদ স্মৃতি সংঘ (সবুজ) ওবায়দুল ইসলাম, আসাদ স্মৃতি সংঘ (নীল) ইমামুজ্জামান, সৌখিন ক্রীড়া চক্র (সবুজ) আব্দুর রহিম কালু, আসাদ স্মৃতি সংঘ (হলুদ) আবুল বাশার সাইফুল্লাহ, আরএন রোড ক্রীড়া চক্র (সবুজ) জাহাঙ্গীর শিকদার, থ্রী ব্রাদার্স ক্লাব (লাল) আবু মোতর্জা ছোট, থ্রী ব্রাদার্স ক্লাব (সবুজ) ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম, ইয়াকুব আলী স্মৃতি সংসদ (লাল) নওশীন সুলতানা, ইয়াকুব আলী স্মৃতি সংসদ (সবুজ) ফেরদৌস আহমেদ, ম্যাগপাই ক্লাব (লাল) ফারিয়া তাবাসুম বর্ষা, ম্যাগপাই ক্লাব (সবুজ) সরোয়ার হোসেন, নব দিশারী ক্রীড়া চক্র (লাল) হারান চন্দ্র দে, সৌখিন ক্রীড়া চক্র (বøু) পার্থ প্রতিম দেবনাথ রথি, চৌগাছা ক্রিকেট ক্লাবের সাইফুল ইসলাম, আছিয়া ক্রিকেট ইন্সটিটিউটের শেখ আশরাফুর রহমান, দেশ ক্রিকেট একাডেমীর আব্দুল মজিদ, উষা স্পোর্টিং ক্লাব মণিরামপুরের মাহমুদ মোল্লা, কেশবপুর ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এমরান খান, এসএস ক্রিকেট একাডেমীর সামছুদ্দিন শাহাজী নন্টু, রুদ্র ঝটিকা ক্রিকেট একাডেমীর কুমার কল্যাণ, স্বর্ণলতা ক্লাবের মীর মোশাররফ হোসেন বাবু, বদরুল আলা স্মৃতিসংঘের গোপিনাথ দাস, সিরাজুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের তানভিরুল ইসলাম সোহান, বজলুল করিম স্মৃতি সংসদ সৈয়দ সাজ্জাদুল কবির কাবুল, অগ্রণী সংসদ সাহিদা আক্তার, সিটি ক্রীড়া চক্র হাবিবুর রহমান রুবেল, এপিক বাস্কেটবল কোচিং সেন্টার সাবিনা সিদ্দিকী ডেইজী, গোলাম মোস্তফা সিদ্দিকী স্মৃতি সংঘ এম এ মতিন সিদ্দিকী, কাজল স্মৃতি সংঘ অ্যাড. বোরহান উদ্দিন সিদ্দিকী, ঝিকরগাছা ক্রিকেট একাডেমী শাহানুর কবীর হ্যাপী।
এ প্রসঙ্গে ক্রীড়া সংগঠক আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল দাবি করেছেন, যে সব ক্লাব বাদ পড়েছে তাদের অপরাধ কোথায়। যারা ক্লাবগুলিকে অনুমোদন দিয়েছে তারাই অপরাধী। ক্লাবগুলো খেলায় অংশ নিয়েছে, অর্থ ব্যয় করেছে। তারা তো খেলার জন্যই মাঠে এসেছে।
জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও আবাহনী ক্রীড়া চক্র যশোরের সভাপতি আসাদুজামান মিঠু জানান, ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম হয়েছে এটাই তার প্রমাণিত।