যশোর বিআরটিএ: লাইসেন্স আবেদনের হিড়িক

ব্যুরো রিপোর্ট : সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে। এরই মধ্যে আইনটি যশোরে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। নবায়নের পাশাপাশি নতুন কাগজপত্র ও লাইসেন্স করতে যশোর বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) অফিসে ভিড় করেছেন গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মালিকরা। আইনটি কার্যকরের প্রথম পাঁচদিনে এ অফিসে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন করতে নতুন আবেদন জমা পড়েছে ৩০০টি। আগামী সপ্তাহে আবেদনের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যশোর বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন আইন হওয়ার পর অনেকেই ১০-২০ বছর পুরনো গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করতে আসছেন। গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ও ফিটনেস সনদসহ সংশ্লিষ্ট সেবা দিতে এখানে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলছে।
গতকাল সরেজমিন শহরের কোল্ডস্টোর মোড়ে যশোর বিআরটিএর নতুন অফিসে দেখা যায় সকাল থেকে সেবাপ্রার্থীদের লম্বা লাইন। তারা জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইনকে স্বাগত জানিয়ে এবং দায়িত্ববোধ থেকে তারা গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করছেন। শহরের লোন অফিসপাড়ার ব্যবসায়ী নূরুল হক এসেছিলেন নিজের মোটরসাইকেলের লাইসেন্স করতে। তিনি বলেন, ব্যস্ততা ও আলসেমির কারণে বছরখানেক আগে কেনা মোটরসাইকেলটির লাইসেন্স করা হয়নি। তবে সরকারের নতুন আইনকে সম্মান জানিয়ে তিনি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে এসেছেন।
সেলিম হোসেন নামে আরেকজন বলেন, আমাদের গাড়ি কেনার সময় সেটি আমার পিতার নামে নামপত্তন ছিল। তিনি এখন আর গাড়ি চালান না। কিন্তু নতুন আইনে যে গাড়ি চালাবেন, তার নামে গাড়ির কাগজপত্র থাকতে হবে। এ কারণে পিতার নাম পরিবর্তন করে আমার নামে নামপত্তন করতে এসেছি।
যশোর বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন আইন হওয়ায় গাড়ির মালিকরা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অফিসে এসে তথ্য নিচ্ছেন, কীভাবে লাইসেন্সসহ গাড়ির কাগজপত্র করবেন। এ কারণে আমাদের কাজের চাপ বেড়েছে। মালিকরা যাতে জটিলতায় না পড়েন, সেজন্য আমরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিচ্ছি।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিসি হিসেবে মোটরসাইকেলের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে সরকারি খরচ ১৯ হাজার ৬৬৩ থেকে ২১ হাজার ২৭৩ টাকা। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২ হাজার ৫৪২ টাকা ও নামপত্তনের জন্য ৩ হাজার ৫৮৮ থেকে ৫ হাজার ৩১১ টাকা নেয়া হচ্ছে।
যশোর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক কাজী মোরছালিন বলেন, জেলায় বড় গাড়ির লাইসেন্স রয়েছে পাঁচ হাজার। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সম্প্রতি যশোর বিআরটিএর অফিস বকচর কোল্ডস্টোর মোড়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। কারো যাতে অসুবিধায় না হয়, এ কারণে কালেক্টরেট চত্বরের পুরনো অফিসের সামনে নতুন অফিসের ঠিকানা সুনির্দিষ্টভাবে লিখে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের নতুন আইনের বিষয়ে যশোর বিআরটিএর ফেসবুক পেজে সচেতনতামূলক প্রচারণা চলমান।
তিনি আরো বলেন, নতুন আইনের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ অফিসের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হবে। বর্তমানে গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পাশাপাশি মোটরসাইকেলের আরোহীরা হেলমেট ব্যবহার করছেন। এটা ইতিবাচক দিক। মূলত মোটা অংকের জরিমানার হাত থেকে রক্ষা পেতে জনগণ সচেতন হচ্ছে।

-তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা