বেনাপোল কাস্টমসে সোনা চুরি: বরখাস্ত ৫, তদন্ত কমিটি

ব্যুরো রিপোর্ট: যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ভোল্ট ভেঙে ১৯ কেজি সোনা চুরির ঘটনায় ভোল্ট ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাহাবুল সর্দার ও ৪ সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্র, শনি ও রোববার টানা তিন দিন ছুটির মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি টের পান কাস্টমস কর্মকর্তারা।

কাস্টমস সূত্র জানায়, কাস্টমস হাউজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার রক্ষিত ভোল্টের তালা ভেঙ্গে বিপুল পরিমাণ সোনা, ডলার, টাকাসহ বৈদেশিক মুদ্রা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে গেছে চোরেরা। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি ওই কক্ষে প্রবেশ করার পূর্বেই সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ঘটনাস্থলে সোমবার সকাল থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বেনাপোলের একাধিক সূত্র জানান, কাস্টমস হাউজ অসংখ্য সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত একটি সংরক্ষিত এলাকা। কিভাবে এধরনের চুরির ঘটনা ঘটল তা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। সোমবার বিকাল ৫ টার দিকে ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব ও বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ওই ভোল্ট রুমে প্রবেশ করেন। তবে সে সময় ওই কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার বেলাল হুসাইন চৌধুরী জানান, তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য একটি চক্র এ কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে। তিনি জানান, এ ঘটনার তদন্তে যুগ্ম-কমিশনার শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এঘটনায় লকার ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাহাবুল সর্দার ও ৪ জন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে সোমবার রাত ১০টার দিকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তা যশোর ডিএসবির এএসপি তৌহিদুর রহমান আনুষ্ঠানিক ভাবে সাংবাদিকদের জানান, তিন দিন বন্ধের মধ্যে চোর চক্র এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এ চুরির ঘটনায় কাস্টমস হাউজের একজন ইন্সপেক্টর, একজন সিপাহীসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— ইন্সপেক্টর সাইফুল, সিপাহী পারভেজ, এনজিওকর্মী আজিবর, মহব্বত ও সুরত আলী। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কাস্টমস হাউজের ভোল্টে ২৯ থেকে ৩০ কেজি সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা, কষ্টিপাথরসহ মূল্যবান দলিলপত্র ছিল।
যশোর ডিএসবির এএসপি তৌহিদুর রহমান বলেন, কিন্তু চুরি হওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তে সেখান থেকে শুধু মাত্র ১৯ কেজি ৩৮৫ গ্রাম সোনা মিসিং পেয়েছি। অন্য কোন মালামাল চুরি হয়েছে কিনা সেটা তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
তিনি জানান, তিন দিন সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। যে কারণে সিসি ফুটেজ দিয়ে চোর চক্রকে সনাক্ত করা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত করে চোর চক্রকে ধরা হবে।