যশোর আ.লীগের সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আমেজ

ব্যুরো রিপোর্ট : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আজ বুধবার। সকালে শহরের ঈদগাহ ময়দানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে ইলেকশন নাকি সিলেকশনে হবে, সেটি এখনও চুড়ান্ত হয়নি। ইলেকশন হলে কাউন্সিলরদের কদর বাড়বে। আর সিলেকশন হলে দলের হাইকমা-ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার গ্রুপ ও এমপি কাজী নাবিল গ্রুপ তাদের আধিপত্যের প্রশ্নে প্লাস-মাইনাসের নানা কৌশল নিয়েছে। দুই গ্রুপই কৌশল হিসেবে একই পদে একাধিক ডামি প্রার্থীও মাঠে নামিয়েছেন। যাতে সিলেকশনের ক্ষেত্রে দরকষাকষির সুযোগটা থাকে। আর ইলেকশন হলে কাউন্সিরদের মতমতই চূড়ান্ত। সম্মেলন ঘিরে গোটা শহরে সাজসাজ বর। চাঙ্গা হয়েছে দলের নেতাকর্মীরাও।
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, শীর্ষ পদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে ইলেকশন নাকি সিলেকশন হবে, সেটি জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারণ করবেন। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সম্মেলন সফল করতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহিদুল ইসলাম মিলনকে সভাপতি ও শাহীন চাকলাদারকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের ৮৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছরে দ্বিধাবিভক্ত জেলা আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ কর্মসূচি শাহীন চাকলাদার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বে আলাদাভাবে পালিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৬ নভেম্বর যশোর ও সদর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শাহীন চাকলাদার অনুসারীদের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ৪৫৫ কাউন্সিলরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির ৬৮ জন, যশোর সদর উপজেলার ৬৪জন, শহর আওয়ামী লীগের ৪২জন, মণিরামপুর উপজেলার ৪৩জন, চৌগাছা উপজেলার ৩০জন, শার্শার ৩৫জন, বাঘারপাড়ার ২৭জন, অভয়নগরের ২৬জন, ঝিকরগাছার ৪১ জন ও কেশবপুরের ৩৪ জন। কো-অপ্ট করা হয়েছে ৪৫ জনকে। তবে শীর্ষ পদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে ইলেকশন নাকি সিলেকশন হবে, সেটি নিশ্চিত নয়। এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। সদ্য সমাপ্ত সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের নেতৃত্ব নির্বাচনে পরাজয়ের পর এমপি কাজী নাবিল আহমেদ অনুসারীরা জেলা সম্মেলন ঘিরে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, বর্তমান সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, সাবেক সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো, সাবেক পৌরমেয়র কামরুজ্জামান চুন্নু ও যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব) ডা. নাসির উদ্দিন আলোচনায় আছে।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী রায়হান, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন জানান, প্রায় প্রস্তুত সম্মেলনস্থল ঈদগাহ ময়দান। ময়দানে ১৫হাজারের বেশি নেতাকর্মীর আসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সম্মেলন ঘিরে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগম ঘটবে শহরে। স্মরণকালের সেরা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। যার আয়তন ও নান্দনিকতা একেবারেই ভিন্ন। সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। ইতিমধ্যে সম্মেলন সফল করতে অভ্যর্থনা উপকমিটি, অর্থ উপকমিটি, সাজসজ্জা উপকমিটি, আপ্যায়ন উপকমিটি, স্বাস্থ্য উপকমিটি, প্রচার উপকমিটি, দপ্তর উপকমিটি ও স্বেচ্ছাসেবক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
আশরাফুল আলম লিটন আরও জানান, অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মানিত অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-হানিফ, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, বিশেষ বক্তা থাকবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সদস্য এসএম কামাল হোসেন ও পারভীন জামান কল্পনা।
পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এরমধ্যে টহল পুলিশ, অনুষ্ঠানস্থলে স্ক্যানার থাকবে। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সময় তল্লাশি করা হবে। এছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঝুঁকির কোনো বিষয় দেখছি না। তারপরও সম্মেলন ঘিরে পুলিশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকবে।