যশোর-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালু দাবি

ব্যুরো রিপোর্ট: যশোর-ঢাকা রুটের ফ্লাইটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিনের পর দিন। সময় বাঁচাতে ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্যই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিমান ভ্রমণে এই গ্রহণযোগ্যতা। এছাড়া শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি (মাওয়া) এবং পাটুরিয়া- দৌলতদিয়ায় (আরিচা) প্রায়ই যানজটের কারণে এবং ট্রেনের টিকিট সংকটও বিমানের চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যার প্রেক্ষিতে বর্তমানে যশোর-ঢাকা রুটে প্রতিদিন বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলার ৫টি, নভোএয়ারের ৫টি এবং সরকারিভাবে বিমান বাংলাদেশের নিয়মিত ১টি ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে ২/৩ দিন প্রয়োজনবোধে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট বাড়ানো হয়। এদিকে নিয়মিত বিমানের ভ্রমণকারী যাত্রীদের দাবি যশোর-ঢাকার পাশাপাশি যশোর-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালু করা উচিৎ। বিষয়টি বিবেচনা করে বেসরকারি বিমান এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলা এবং নভোএয়ারেরও পরিকল্পনা করছেন।
জানা যায়, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোরের বড় একটা জনগোষ্ঠী বর্তমানে বিমানে যাতায়াত করছে। গত এক যুগের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিমান এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলা এবং নভোএয়ার যশোর-ঢাকা রুটের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে। নিয়মিত বিমানে যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, যশোর-ঢাকার পাশাপাশি এখন সময়ের দাবি যশোর-কক্সবাজার রুটে নিয়মিত ফ্লাইট শুরু করা। কারণ এ অঞ্চল থেকে যারা কক্সবাজারে যায় তাদের যশোর-ঢাকা এবং ঢাকা-কক্সবাজার দু’টি রুটে ভ্রমণ করতে হয়। এক্ষেত্রে ট্রানজিট সমস্যাও হয়। তাই চাহিদার দিক বিবেচনা করে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি বা বেসরকারি বিমান এয়ারলাইন্সগুলো যশোর-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট শুরু করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কম খরচে এবং স্বল্প সময়ে যাত্রীরা যশোর থেকে কক্সবাজারে যেতে পারবেন।
খুলনার একাধিক এয়ারলাইন্সের এজেন্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রতি মাসে ৩০/৪০ জনের বেশি যাত্রী প্রত্যেক এজেন্টে এসে যশোর-কক্সবাজার ফ্লাইট চালুর বিষয় খোঁজ খবর নেন। বিশেষ করে ভ্রমণ পিপাসু মানুষরাই এ রুটের যাত্রী। চাহিদা থাকলেও সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় সবাই হতাশা হয়ে ফিরে যায়।
এ বিষয়ে বেসরকারি বিমান এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলার মার্কেটিং ও সেলস অফিসার নাইমুল রুমী বলেন, যশোর-কক্সবাজার রুটে এয়ার ক্রাফট পরিচালনার জন্য আমাদের চিন্তা ভাবনা রয়েছে। তবে সেটার জন্য সময় লাগবে। তিনি বলেন, শুধু যশোর নয় সিলেট-কক্সবাজারের রুটেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে কমন রুটগুলোতে আরও বেশি ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
বেসরকারি বিমান এয়ারলাইন্স নভোএয়ারের সেলস অফ হেড পলাশ বলেন, যশোর-কক্সবাজার রুটে ইচ্ছা থাকলেও এখনই তা সম্ভব নয়। কারণ এটা কমন রুটের মত লাভজনক নয়। আমরা এটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাপ্তাহিক বা পাক্ষিক যশোর-কক্সবাজারে রুট চালু হলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। কারণ যশোর থেকে যাওয়ার সময় যাত্রী পাওয়া গেলে আসার সময় পাওয়া যাবে না। কারণ কক্সবাজারে খুব কম দর্শনার্থীই এক সপ্তাহ থেকে পনের দিন অবস্থান করেন। তাই এই রুটে যদি ফ্লাইট চালু করা হয় তবে সেটা প্রতিদিনই রাখতে হবে।
সূত্র : সময়ের খবর