চৌগাছায় রাতের আধারে সাড়ে তিনবিঘা জমির আমগাছ কেটে সাবাড়!

ব্যুরো রিপোর্ট : যশোরের চৌগাছায় ফারুক ইকবাল নামের এক ব্যক্তির তিন বিঘা জমির বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাগানো আম গাছ (আম্রপলি) একরাতেই কেটে সাবাড় করেছে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা। একই রাতে এক মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেতের চারটি লিছু গাছও কেটে দিয়েছে তারা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই ক্ষেতে গেলে দেখা যায় পুরো তিন বিঘা জমিতে মাত্র তিনটি ছোট আমের চারা কাটা হয়নি। বাকি গাছগুলি সব কেটে ফেলে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। একই সাথে ফারুকের প্রতিবেশি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের মাঠের অপর প্রান্তের একটি লিছু বাগানের চারটি লিছু গাছ (যেগুলোতে গত বছরও লিছু এসেছিল) কেটে ফেলা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মাঠে দূর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ব্যক্তি চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয়রা বলছেন বিগত তিন বছর ধরে ওই মাঠের বেশ ক’জন কৃষকের আম ও লিছু ক্ষেত এভাবেই রাতের আধাঁরে কেটে সাবাড় করছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
ভুুক্তভোগি যশোর শহরের দড়াটনা এলাকার ফাতেমা অপটিক্যালের স্বত্বাধিকারী ও চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক ইকবাল জানান, তিন বছর আগে গ্রামের মাঠে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আ¤্রপলি জাতের প্রায় দেড়শ আমের চারা লাগান তিনি। গাছগুলিতে আসন্ন মৌসুমে মুকুল আসার উপযুক্ত হয়ে গেছে। এমন সময়ে গত বুধবার রাতের কোন এক সময়ে অজ্ঞাত ওই দূর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে সমুদয় গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।
আম গাছের সাথে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিদের কি শত্রুতা তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। আম গাছ লাগানোর আগে একই জমিতে তিনি থাই পেয়ারার চাষ করেন। পেয়ারা গাছে ফুল আসা শুরু হলে জমির এক হাজার পেয়ারার চারাও একইভাবে কেটে ফেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে পেয়ারার চাষ বাদ দিয়ে তিনি আম চাষ করেন। কিন্তু পেয়ারর মত আমেরও একই পরিনতি হল। পেয়ারা ও আম চাষ করতে যেয়ে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন বলে জানান। ফারুক ইকবাল জানান, যশোর শহরে থাকার সুবাদে তিনি এক ব্যক্তিকে মাসিক বেতন চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। আম বাগানসহ তাদের অন্য বাগানও ওই ব্যক্তিই পরিচর্যা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে কর্মচারী গোলাম রব্বানীর মাধ্যমে বাগান মালিক ফারুক ইকবাল এই ঘটনা জানতে পারেন। পরে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে তিনি চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই ক্ষেতে গেলে দেখা যায় পুরো তিন বিঘা জমিতে মাত্র তিনটি ছোট আমের চারা কাটা হয়নি। বাকি গাছগুলি সব কেটে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। ফারুক ইকবালের গ্রামের প্রতিবেশি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহ-কমান্ডার শহিদুল ইসলামের একটি লিছু বাগানের চারটি লিছু গাছও একই রাত্রে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শহিদুল ইসলাম বলেন গত তিন বছর ধরে একটি কুচক্রি মহল মাঠের বিভিন্ন ফসল ও গাছ এভাবে কেটে ফেলছে। তাদের উদ্দেশ্য কি এটা বুঝাও যাচ্ছে না। ওই ব্যক্তিরা বরাবরই ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তার সাড়ে ৩ বিঘা জমির লিচু গাছ কেটে দেয় দূর্বৃত্তরা। একই সালে তারই চাচাতো ভাই গ্রামের রফিউদ্দিনের দেড় বিঘা জমির প্রায় একশত আম গাছ কেটে ফেলা হয়। একই ভাবে গ্রামের তবিবুর রহমানের ৩ বিঘা জমির আম গাছ, মতিউর রহমানের সাড়ে ৩ বিঘা জমির আম গাছ এভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কেটে ফেলে দেয়। তিনি বলেন কেন তারা এসব করছে তা বোঝা যাচ্ছে না। যেসব জমির গাছ কাটা হচ্ছে তার আশে পাশের জমিতেও গাছের বাগান রয়েছে। ওরা শুধু ফলজ গাছগুলিই কেটে ফেলছে। অথচ ফলজ গাছে কোন ক্ষতি কারো হয় না। তবে তিনি বলেন এ বিষয়ে শুধুমাত্র এবারই ফারুক ইকবাল থানায় অভিযোগ করেছেন। এর আগে কেউ এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করেন নি।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময়ে ওই রাস্তার ভ্যান চালক জগদিশপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন প্রতি বছরই এই মাঠটির কোন না কোন আম বাগান, লিছু বাগান বা থাই পেয়ারা বাগান রাতের আধারে কেটে দিচ্ছে। কে বা কারা এই কাজ করছে তা এখনো বোঝা যায়নি।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান বলেন বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। তদন্ত চলছে। তদন্ত করে বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।