নির্বাচনী আলোচনায় বছর পার

এম এ রাজা : শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়। তবে ইদানিং প্রধান গেট দিয়ে তাকালে নিচতলার খেলোয়াড় সাজঘরের দুই পাশ ভুতুড়ে বাড়ির মতো মনে হয়। অনেকদিন কারও পদচারণা পড়েনি নিচতলার এই বারান্দায়। যদিও দোতলার অফিস রুমে প্রতিদিনই কর্মচারীদের পদচারণা। অফিসকক্ষের পাশে রয়েছে সাধারণ সম্পাদক কক্ষ। এই ঘরের চেয়ার-টেবিলগুলো হয়তো নিজেরা টকশো করে দিন কাটাচ্ছে। তাদের বিষয়বস্তু নতুন করে কে বসবে আমাদের ঘাড়ে। এই চেয়ার-টেবিলের মতো বছরজুড়েই যশোর ক্রীড়াঙ্গনের সকলের একটাই প্রশ্ন ছিল কবে হবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন। হাইকোর্ট-জজকোর্ট শেষ করে কবে মাঠে ফিরবে খেলা। বলা যায় নির্বাচন আলোচনায় ২০১৯ সাল পার হয়ে গেছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাঠে গড়ায়নি কোনো খেলা। যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের বিগত বছর ছিল হতাশার গল্প। তবে অন্ধকারের মধ্যে বছরের শুরুতে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছিল বয়সভিত্তিক ক্রিকেট। অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৪ খুলনার বিভাগীয় প্রতিযোগিতার দুটি শিরোপা জেতে যশোরের কিশোররা। অপরদিকে বছরজুড়েই মাঠ ও মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় আলোচনায় ছিল যশোর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা

২০১৮ সালের ১৩ মে সর্বশেষ বল মাঠে গড়িয়েছে জেলার ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব ব্যবস্থায়। এরপর থেকে নির্বাচন জটিলতায় কোনো খেলায় হয়নি। যদিও চলতি বছরের ২১ জুলাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার সাথে প্রার্থী তালিকায়ও চূড়ান্ত হয়। কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন আগে শরিফুল ইসলাম চৌধুরি সরু জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা উপরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দাবিতে যশোর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে আদালত। পরে ২৯ জুলাই শুনানিতে ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচনে নতুন তফসিল ঘোষণা করার কথা বলেন আদালত। সেই থেকে ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার মুখে একটায় কথা কবে হবে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন।
চার বছর মেয়াদি এই কমিটির সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৫ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে মামলার জটিলতার কারণে প্রায় দুই বছর পর ২০১৪ সালের ২২ জুন ক্ষমতা গ্রহণ করে বর্তমান কমিটি। সেই হিসাবে ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল শেষ হয় সর্বশেষ কমিটির মেয়াদ। তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাস আগে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু না করায় যথাসময়ে নির্বাচন করা সম্ভাব হয় না। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস পর ২০১৮ সালের আগস্টে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্বে আসে অ্যাডহক কমিটি। অ্যাডহক কমিটি পরের মাসে নির্বাচনের জন্য ক্লাব প্রতিনিধি চায়। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করার কিছু দিন আগে দুই ক্রীড়া সংগঠক আগের কমিটির নানা অনিয়মের তদন্তের জন্য চেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আবেদন করে। তিন দফা তদন্ত শেষে ৪৫টি ক্লাবের অ্যাফিলিয়েশন বাতিল করা হয়।

জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ)

কয়েক বছরের মতো ২০১৯ সালেও আদালতের বারান্দা থেকে বের হতে পারেনি যশোর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ)। এই বছর ডিএফএ নির্বাচন নিয়ে আদালতে মামলা হয়। যদিও মামলার কারণে খুব বেশি দিন ভুগতে হয়নি ডিএফএ’র কর্মকর্তাদের। সঠিক সময়ে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে আসাদুজ্জামান মিঠু সভাপতি নির্বাচিত হন। চলতি বছর ডিএফএ’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গড়িয়েছে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ। এছাড়া বছর শেষে সম্পন্ন হয়েছে প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের দলবদল। যা আগামী বছর শুরুতে মাঠে গড়াবে।
এছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে ডিএফএ’র ব্যবস্থাপনায় জেএফএ কাপ ফুটবলের খেলা হয় যশোরে। এই জেএফএ কাপ থেকে বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের নিয়ে যশোরে দুই মাস আবাসিক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।