‘আমি একা নই প্রায় সব চেয়ারম্যান সরকারি বরাদ্দের সোলার নিয়েছে’

ব্যুরো রিপোর্ট: সামাউল ইসলাম সাগর। এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। দুই বছর আগে তার নামে একটি এসি সোলার প্যানেল বরাদ্দ করা হয়েছে। সাগর যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংঝুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদলের ছেলে। সরকারি বরাদ্দের সোলার প্যানেল জনপ্রতিনিধির নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই ছেলের নামে এক লাখ ৮ হাজার ৭৮০ টাকা মূল্যের এসি সোলার প্যানেল ( সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা) বরাদ্দ নিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে অকপটে স্বীকারও করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল। তার দাবি, দুই বছর আগে বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। তাই ছেলের নামে সোলার প্যানেল বরাদ্দ নিয়েছেন। এক হলো বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছেছে তার বাড়িতে।
এক প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম খলিল বাদল বলেন, আমার নামে সোলার প্যানেল নিই নাই। ছেলের নামে নিয়েছি। আর আমি একা নই, প্রায় সব চেয়ারম্যান টিআর-কাবিখার বরাদ্দের সোলার নিয়েছেন। আমি জানতাম না নেওয়া যাবে না। পিআইও অফিস থেকেও বলা হয়নি দেয়া যাবে না। ম্যানুয়ালে কি আছে আমি জানি না।
সোলার প্যানেল স্থাপনে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (আরডিএফ) চৌগাছা শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সেলিম রেজা জানান,২০১৮-১৯ অর্থবছরের ইউনিয়নের সোলার প্যানেলে’র (সৌর বিদ্যুৎ) জন্য সরকারি বরাদ্দের ৭০০ ওয়াট সরবরাহ ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুতের বরাদ্দ পান সামাউল ইসলাম সাগর নামের এক ব্যক্তি। নিয়মানুযায়ী তার বাড়িতে সেটি লাগিয়ে দিয়ে এসেছি। তিনি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে। একটি সোলারের বরাদ্দের টাকায় আটটি বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব হতো।
শুধু ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল নয়, চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যান-মেম্বরদের বিরুদ্ধে সন্তান, ভাই-বোন ও নিকট আত্মীয় স্বজনের নামে সোলার প্যানেল বরাদ্দ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টিআর, কাবিখার বরাদ্দের সোলার প্যানেল বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে দীর্ঘধীন ধরেই।
মঙ্গলবার বিকেলে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের দাপ্তরিক ফোনে একাধিবার কল দিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সুবিধাভোগী হতে পারবে না। তিনি যদি সোলার নিয়ে থাকেন, তবে তিনি অন্যায় করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।