যশোরে ‘টাক মিলনকে’ সাতদিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

ব্যুরো রিপোর্ট : যশোর জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ও একাধিক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানভুক্ত আসামি বহুল আলোচিত জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনকে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার (আজ) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে মিলনকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করে মিলনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় দুবাই থেকে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে দেশে ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে গ্রেফতার হন। এরপর সোমবার যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জাহিদ হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে আদালতের তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধে তথ্য পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে ছিল। তিনি দুবাই থাকেন এবং প্রায়ই দেশে আসেন, এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় দুবাই থেকে ফেরার পথে ইমিগ্রেশন পুলিশ মিলনকে গ্রেফতার করে আমাদেরকে অবহিত করে। সোমবার যশোর ডিবি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে, যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, যশোর শহরের পুরাতন কসবার রোস্তম আলীর ছেলে জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন (৪৭) নামে হত্যা, বিস্ফোরক আইনে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- কোতয়ালী থানার মামলা নম্বর-৪৪ তারিখ ২৭/১০/২০১৯, মামলা নম্বর-১১০ তারিখ ২৯/০৯/২০১৯, মামলা নম্বর-৯৫ তারিখ ১৯/০৮/২০১৭, মামলা নম্বর-১১৩ তারিখ ২৬/০৮/২০১৯, মামলা নম্বর-৪৮ তারিখ ০৮/০৪/২০১২, মামলা নম্বর-১২২ তারিখ ২২/০৬/২০০৬, মামলা নম্বর-৬০ তারিখ ১৬/০৪/২০০৬, মামলা নম্বর-০৩ তারিখ ১৪/০৪/২০০৬, মামলা নম্বর-১৮ তারিখ ০৫/০৪/২০০৬, মামলা নম্বর-১১১, তারিখ ০৫/০৪/২০০৫। এছাড়াও তিনটি মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। যার নম্বর যথাক্রমে এসটিসি-২৬৩/১৫, এসটিসি-২২৫/১৬, এসটিসি-২৪৮/১৭। ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এই হত্যাকাণ্ডের মূলপরিকল্পনাকারী জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন। এই মামলায় আটক এক আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে টাক মিলনের নাম এসেছে। এই মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি তিনি। এছাড়াও ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত টাক মিলন। তার নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলেই পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ইজিবাইক, ট্রাকে ব্যাপক চাঁদাবাজি, এলাকার মানুষের কাছে চাঁদাবাজিতে জিম্মি হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। এছাড়াও পালবাড়ির রয়েল কমিউনিটি সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো (জুয়া) ব্যবসা পরিচালনা করছিল। সারাদেশে ক্যাসিনো বিরোধী ও শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে গা ঢাকা দেয় টাক মিলন। পুলিশ একাধিকার অভিযান চালালেও তাকে ধরতে পারেনি। তিনি প্রভাবশালী নেতার গাড়ি ও বাড়িতে থাকতেন। বাইরে বের হতে না। সর্বশেষ তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে দুবাইয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। সেখান থেকে মাঝে মাঝে দেশে আসতেন। এই তথ্য পুলিশের কাছে আসলে ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সর্বশেষ রোববার শাহজালাল বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ দুবাই থেকে ফেরার সময় স্ত্রী, সন্তানসহ মিলনকে গ্রেফতার করে। স্ত্রী সন্তানের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর মিলনকে যশোর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। টাক মিলনের দৌরাত্মে অতিষ্ঠ পালবাড়ি, পুরাতন কসবা এলাকার মানুষ। ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পায়নি কেউ। তবে পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। যশোর পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলেও তাকে বাগে পাচ্ছিল না। অবশেষে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।