চাষির বাহারী ফুল এখন পশুখাদ্য

ব্যুরো রিপোর্ট: গেল বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবসে গোলাপের দাম ছিল আকাশছোঁয়া। প্রতি পিস গোলাপ ২৫ টাকা পর্যন্ত পাইকারী বিক্রি হয়েছে। জারবেরা, রজনীগন্ধা ফুলের দামও ছিল চড়া। মাসখানেকের ব্যবধানে করোনাভাইরাসের আঘাতে ধস নেমেছে সেই ফুলের রাজ্যে। ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালিতে কৃষকের সাজানো বাগান চুরমার হয়েছে। ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফুল। চাষীরা ফুল বাগান থেকে ফুল কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছে। চাষীদের চোঁখে মুখে হতাশার ছাপ।
জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক ছয় হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করেছেন। ফুল চাষে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ফুলের উৎপাদন হয়েছিলো। ছাড়িয়েছিলো দামেও। দেশের সবচেয়ে ফুলের বাজার গদখালি বাজারে প্রায় ১২ রকমের ফুল বেঁচা-কেনা হয়। প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফুল চাষীরা ভরা মৌসুম। কিন্তু করোনা ভাইরাসে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও বাংলা বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে ফুল চাষি ও ব্যবসায়িদের অন্তত একশ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি গদখালি ফ্লাওয়ার সোসাইটির।
গদখালি এলাকার কৃষক শাহজাহান জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমির গোলাপ ফুলের ক্ষেত এখন ছাগলের খাদ্যে পরিনত হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ১২ দিন ধরে ফুলের বেচাকেনা নেই। এদিকে বাগান থেকে প্রতিদিনই দেড় থেকে দুই হাজার গোলাপ কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে। কারণ গোলাপ না কাটলে বাগান নষ্ট হয়ে যায়। একদিকে ফুলের বেচাকেনা নেই; অন্যদিকে ফুল কাটার জন্যে শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। প্রতিদিনই শাহজাহানের দুই হাজার টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে।
পানিসারা এলাকার ফুল চাষী শের আলী জানান, ‘আড়াই বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেছি। বাংলা বর্ষবরণ উৎসব সামনে রেখে ফুল উৎপাদনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিলো। কয়েক লাখ টাকা গোলাপ বাগানে বিনিয়োগ করা আছে। ঠিক সেই সময়ে করোনা ভাইরাসের দুর্যোগের কারণে ১২ দিন ধরে পরিবহন-দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ফুলের বাজার বসছে না। ক্ষেত থেকে প্রতিদিনই দেড় হাজারের বেশি গোলাপ ফুল কেটে ছাগল গরু দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে। ফুল না কাটলে নতুন করে আর কুড়ি আসে না। অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি আমরা ফুল চাষিরা।
তিনি আরো বলেন, শুধু আমার মতো না এই এলাকার হাজারো ফুলচাষী এমন বিপাকে পড়েছেন। তাদের বাগানের রজনীগন্ধা, গøাডিওলাস, জারবেরা ফুল কেটে গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে গদখালীর পাইকারি ফুলের বাজার ২৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। চাষিরা ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। আবার ক্ষেতে ফুল রাখতেও পারছে না। এরকম উভয় সংকটে পড়েছেন তারা। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে যশোর অঞ্চলে ফুল চাষি ও ব্যবসায়িদের অন্তত ১শ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখনই কৃষকদের খাদ্য সরবারাহ ও বিনা সুদে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।