যবিপ্রবির ল্যাবে হবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা

ব্যুরো রিপোর্ট: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। হাসপাতালের বাইরে দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রথম করোনাভাইরাস পরীক্ষার সরকারি অনুমতি পেল। শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যবিপ্রবি উপাচার্য ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল কমিটি ল্যাবরেটরি ইনভেস্টিগেশনের সভাপতি ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত সেখানে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে। তারা পরীক্ষা করে দেবেন।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারে ২০১৯ সালে সংগ্রহ করা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পিসিআর মেশিন রয়েছে। একসঙ্গে এখানে ৯৬ জনের পরীক্ষা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চারজন শিক্ষক করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করবেন। তারা ছাড়াও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুজন শিক্ষক এই ল্যাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। তাদেরও প্রশিক্ষিত করে ল্যাবে যুক্ত করা হবে।
তিনি জানান, পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই), কিট ও রোগীর নমুনা সরবরাহ করা হলে তারা আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই পরীক্ষা শুরু করতে পারবেন। ল্যাবটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখারও সক্ষমতা তাদের রয়েছে। প্রতিদিন ২শ’ রোগীর নমুনা এখানে পরীক্ষা সম্ভব। তবে নমুনা বারে বারে না পাঠিয়ে এক বা দুইবার পাঠানো হলেই কাজ দ্রুত সম্ভব হবে। দিনের দিনই পরীক্ষার ফলাফল তারা দিতে পারবেন।

ড. আনোয়ার জানান, যবিপ্রবি’র ল্যাবটি ইতিমধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও যশোরের সিভিল সার্জন পরিদর্শন করেছেন। শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এবং শিক্ষা সচিবের সাথেও তার কথা হয়েছে। আইইডিসিআর পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গেও এ নিয়ে তার কথা হযেছে।
উপাচার্য আরও বলেন, তাদের ল্যাবে শুধু পরীক্ষাই নয়; তারা দেশের যেকোনো স্থানে পরীক্ষা চালুর প্রশিক্ষণ দেয়ার সক্ষমতাও রাখেন। সরকারের সিগন্যাল পেলে মহামারীর এ দুর্যোগ মোকাবেলায় তারা তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত।