আজকের পুরাতন কসবা ছিল যশোরের সাহেবগঞ্জ….

কসবা ফরাসী শব্দ। কসবা শব্দটির অর্থ উপশহর বা জনপদ বা ভদ্রপল্লী। যশোর শহরের একটি এলাকার নাম পুরাতন কসবা। কসবা শব্দের অর্থ যদি জনপদ হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকাটি অনেক প্রাচীন। এক সময় এই এলাকার নাম হয়েছিল সাহেবগঞ্জ। বিদেশী সাহেবরা বেশি সংখ্যায় এই এলাকায় বসবাস করতেন বলেই এই রকম নাম হয়েছিল। তবে এখন সাহেবগঞ্জ আর নেই। ওই নামে কোন মৌজাও নেই।
ট্রিলম্যান হেঙ্কেল যশোরের ডিস্ট্রিক ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন ১৭৮১ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। তখন তিনি যশোরের মুড়লী মোড়ে তাঁর প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপন করেন। সেই সময় ম্যালেরিয়ায় মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই পরবর্তীতে ১৭৮৯ সালে রিচার্ড রোক ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পেলে তিনি মুড়লী থেকে সাহেবগঞ্জ এলাকায় কালেক্টরেট কার্যালয় সরিয়ে নেন। এ সময় চাঁচড়ার রাজা শ্রীকন্ঠ রায় (১৭৬৪-১৮০২ ও তাঁর ভাই গোপীকন্ঠ রায় সরকারকে ইশপপুর জমিদার থেকে ৫শ’ বিঘা জমি দান করেন। পরে এই জমির উপর অফিস আদালত গড়ে উঠে। ব্রিটিশ সাহেবদের (ডিস্ট্রিক ম্যাজিষ্ট্রেট, সুপারেন্টেন্ড অব পুলিশ) সহ সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন নির্মিত হয় সেখানে। জায়গাটির নাম হয় সাহেবগঞ্জ। সে সময় ওই এলাকাকে সাহেবগঞ্জ বলে ডাকা হতো। কিন্তু ইতিহাসের সেই সাহেবগঞ্জ নামটি আর এখন নেই। ছবি: যশোরের জেলা প্রশাসকের পুরাতন বাসভবন। এখন পরিত্যক্ত।

।। তথ্যসূত্র: সাংবাদিক সাজেদ রহমানের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া ।।