মোল্লাহাটির নীলকুঠি

।। সাংবাদিক সাজেদ রহমানের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া ।।

মোল্লাহাটির খোঁজে ২০১৮ সালের জুনে গিয়েছিলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। এক সময় মোল্লাহাটিতে ছিল বড় নীলকুঠি। এই নীলকুঠির পটভুমিকায় বিভূতি বাবু লিখেছিলেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘ইছামতি’। কেন জানি আমার কাছে তাঁর পথেরপাচালীর চেয়ে ইছামতি উপন্যাস বেশি ভালো লাগে।  
ইছামতি ছোট একটি নদী। যশোর এবং ভারতের পশ্চিবঙ্গের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এই নদীর তীরে অবস্থিত ছিল এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নীলকুঠি। এক সময় মোল্লাহাটি ছিল যশোর জেলার মধ্যে। ১৯৪৭ সালে দেশেভাগের পর এই মোল্লাহাটি পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ মহাকুমার মধ্যে। বনগাঁ শহর থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তরে ইছামতি নদীর তীরে। আর এই নীলকুঠির ইংরেজ ছিলেন লারমোর এবং জেমস ফরলঙ। তারা ছিলেন খুব অত্যাচারী।

তবে যশোর জেলায় প্রথম নীলকুঠি স্থাপন করা হয় রূপদিয়া বাজারে, যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে। যশোর থেকে রুপদিয়া প্রবেশ পথেই বা হাতে একটি স্থানে কিছুটা ফাঁকা। জংলী লতাপাতায় ঢেকে গেছে চারদিক। ওই লতা পাতা ঢাকা স্থানে পুরনো ভবনের ধ্বংসাবশেষ কৌতুহলী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাশ দিয়ে চলে গেছে ভৈরব নদ। উত্তর প্রান্তের এই নদী পশ্চিম থেকে পুবগামী। ভাঙ্গ ভবনের ধার ঘেঁষা নদের উপর বাঁধানো সিঁড়ি, স্পষ্ট বোঝা যায়, এটা অতীতে ঘাট হিসাবে ব্যবহার করা হতো। এখন ভাঙ্গা ঘাট মুল্যহীন। কেননা যাঁরা ঘাটটি তৈরি করেছিলেন তাঁরা নেই। নদীটিও শীর্ণকায়া। বর্ষায় কিছুটা নাব্যতা পায়। ১৭৯৫ সালে এটি তৈরি করেন মিঃ বন্ড। ছবি: দ্বিতলা ভবন এখন নেই। সেই ইংল্যান্ডের এক শিল্পী মোল্লাহাটির এই ছবি এঁকে ছিলেন।