যশোরের অমৃতবাজার পত্রিকা যেভাবে কলকাতায়ও জনপ্রিয়

বার্তাকক্ষ : অমৃতবাজার হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার একটি গ্রামের নাম। আগে গ্রামটির নাম ছিল পলোয়া-মাগুরা। যশোর জেলা আদালতের উকিল হরিনারায়ণ ঘোষ ছিলেন ওই গ্রামের অধিবাসী। ঘোষ পরিবার ছিল প্রচুর অর্থসম্পদের মালিক। হরিনারায়ণ ঘোষের স্ত্রী অমৃতময়ী দেবীর নামে ওই গ্রামে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করে নাম রাখা হয় অমৃতবাজার। পরে বাজারের নামেই গ্রামটি পরিচিত হয়ে ওঠে।

ঝিকরগাছা রেলস্টেশন থেকে মাইল পাঁচেক উত্তরে কপোতাক্ষ নদের তীরে এই অমৃতবাজার গ্রাম। হরিনারায়ণ ঘোষের বড় ছেলে ছিলেন বসন্তকুমার ঘোষ। তিনি তাঁর অপর ভাইদের লেখাপড়া করানোর বিষয়ে সবিশেষ নজর রেখেছিলেন।

হরিনারায়ণ ঘোষের তৃতীয় ছেলে শিশির কুমার ঘোষ এবং চতুর্থ ছেলে মতিলাল ঘোষ ১৮৬৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ”অমৃতবাজার” নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকাটি দ্বি-ভাষিক (এক পৃষ্ঠা বাংলা এবং এক পৃষ্ঠা ইংরেজি ভাষায়) হিসাবে প্রকাশিত হতো। নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের স্বার্থে লড়াই করার উদ্দেশ্যেই মূলত পত্রিকাটির প্রকাশ।

শিশিরকুমার ঘোষ (১৮৪০-১৯১১) ছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক এবং ছোট ভাই মতিলাল ঘোষ (১৮৪৭-১৯২২) ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। যশোর অঞ্চলে প্রাণঘাতী প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে পত্রিকাটি তিন বছরের মাথায় ১৮৭১ সালে অমৃতবাজার গ্রাম থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। ইংরেজ সরকার ১৮৭৮ সালে ভার্ণাকুলার প্রেস অ্যাক্ট নামের কালাকানুন প্রবর্তন করলে পত্রিকাটি পুরোপুরি ইংরেজি পত্রিকায় পরিণত হয়। ১৮৯১ সালে পরিণত হয় ইংরেজি দৈনিকে।

”অমৃতবাজার পত্রিকা” ছিল অবিভক্ত ভারতে দেশীয়দের মালিকানায় প্রকাশিত প্রাচীনতম ইংরেজি দৈনিক। শিশিরকুমার ঘোষ ছিলেনীর প্রথম এডিটর। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯১১ সাল থেকে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তাঁর ছোট ভাই, পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক মতিলাল ঘোষ।

মতিলাল ঘোষের মৃত্যুর পর পত্রিকায় তাঁর সহকারী, ছোট ভাই গোলাপলাল ঘোষ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। কিন্তু ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে তিনি অপারগ হলে ১৯২৮ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শিশির কুমার ঘোষের ছেলে তুষারকান্তি ঘোষ (১৮৯৮-১৯৯৪)। কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের গ্র্যাজুয়েট তুষারকান্তি ঘোষ অমৃতবাজার পত্রিকার বিজ্ঞাপন শাখায় দায়িত্বে থেকে এর সকল শাখার কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তিনি সুদীর্ঘ ৬৬ বছর (আমৃত্যু) অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তা-ই নয়, বিপ্লবীদের প্রতিষ্ঠিত ”যুগান্তর” পত্রিকার টাইটেল ক্রয় করে তাও প্রকাশ করেছিলেন।