যশোরে কলজেছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণা, ভূয়া সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার


ব্যুরো রিপোর্ট:

ট্রেনের যাত্রায় পরিচয়। এরপর মোবাইল, ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারে কথা বার্তা। নিজেকে সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। এরপর হাতিয়ে নেন নগদ ৮০ হাজার টাকা ও ৫৭ হাজার টাকা মূল্যের ল্যাপটপ। সেই প্রতারক আলমগীর হোসেন ওরফে আশিকুর রহমান রাব্বিকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ছয়খাদা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে।
মঙ্গলবার যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আলমগীর হোসেন। এর আগে সোমবার বিকেলে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযুক্তের কাছ থেকে ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, আনুমানিক ছয় মাস আগে যশোর থেকে ট্রেনে কোর্টচাঁদপুর যাওয়ার পথে আলমগীর হোসেনে ওরফে আশিকুর রহমান রাব্বির সঙ্গে মামলার বাদী হামিদা খাতুনের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়কালে আলমগীর হোসেন নিজেকে অবিবাহিত ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার (ক্যাপ্টেন) পরিচয় দেন। প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে হামিদা খাতুনের কাছে তার পারিবারিক প্রয়োজনে, আর্থিক সমস্যার কথা বলে এক মাসের মধ্যে ফেরত দেবার শর্তে নগদ আশি হাজার টাকা ধার নেয় আলমগীর হোসেন। এছাড়া তার অফিসের কাজে ব্যবহারের জন্যে বাদীর ব্যবহৃত ল্যাপটপটি চাইলে তাকে সরল বিশ^াসে তার ব্যবহৃত এইচপি কোর আই ফাইভ ল্যাপটপ দেন। এরপর আলমগীর নগদ টাকা ও ল্যাপটপ ফেরত দিতে তালবাহানা করতে থাকে। গত ১২ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে মোবাইলে ফোন করে আলমগীরের কাছে পাওনা টাকা এবং ল্যাপটপ ফেরত চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। টাকা ও ল্যাপটপ ফেরত দিবে না বলে জানায়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আলমগীর হোসেন ওরফে আশিকুর রহমান রাব্বি একজন পেশাদার প্রতারক। তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর অফিসার পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীর পোষাক পরিধান করে নিজের ছবি তুলে, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বাদীর সাথে প্রতারনা করে আশি হাজার টাকা ও একটি এইচপি করো আই ফাইভ ল্যাপটপ আত্মসাৎ করেছে। এছাড়াও সে ফেইসবুকে ফেইক (পরিচয় গোপন করে) আইডি খুলে সেনাবাহিনীর অফিসারের র‌্যাংক ব্যাজ পরিহিত ছবি তুলে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করে অনেক মেয়েকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নগদ টাকা ও মালামাল হাতিয়ে নিয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। মঙ্গলবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসানের আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।