যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিহতের ঘটনায় মামলা

ব্যুরো রিপোর্টার: যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যদের মারপিটে তিন কিশোর নিহত ও আরও অন্তত ১৪ জন আহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার কোতয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন নিহত পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮) পিতা খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়া। মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, নিহত রাব্বীর পিতা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নামে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের নাম উল্লেখ করেননি। আসামির কারা হতে পারে, সেটি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার সকালে সহকারী পরিচালক সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী তত্ত¡বধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমানসহ ১০জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, দুইপক্ষের বক্তব্যে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত সংঘর্ষ নয়, মারপিটেই তিনজন নিহত ও ১৪জন আহত হয়েছে। কেন্দ্রের মধ্যে কেউ অপরাধ করলে, সেখানে অভ্যন্তরীণ শাস্তির রেওয়াজ আছে। সেটি করতে গিয়ে ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি আমরা যাচাই বাছাই করছি। কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ ৯/১০জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরদের দুই গ্রæপের মারামারি হয়। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনসার সদস্য ও তাদের নির্দেশে কয়েকজন কিশোর ওই অন্তত ১৮ জনকে বেধড়ক মারপিট করে। মারপিট নির্যাতনের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফেলে রাখা হয়। কয়েকজন অচেতন থাকায় তারা অজ্ঞান হয়ে গেছে মনে করলেও পরে তারা বুঝতে পারে এরা নিহত হয়েছে। এরপর সন্ধ্যারাতে এক এক করে তাদের লাশ হাসপাতালে এনে রাখা হয়।
নিহতরা হলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামানিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), একই জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৮) এবং খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮)। নিহত রাব্বির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ১১৮৫৩। আর রাসেল ও নাঈমের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার যথাক্রমে ৭৫২৪ ও ১১৯০৭। নাঈম হোসেন ধর্ষণ এবং রাব্বি হত্যা মামলার আসামি ছিল। আহত ১৫জন হলো- রুপক (১৫), জাবেদ (১৭), আরমান (১৬), হৃদয় (১৬), লিমন (১৬), শাকিব (১৬), ঈশান (১৫), পাভেল (১৬), শরিফুল (১৬), সাব্বির (১৬), হৃদয়-২(১৭) মাহিম (১৭), রাকিব (১৬), সাব্বির (১৬), নাঈম (১৩)।