তিন বন্দি খুন: মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমা সোমবার

ব্যুরো রিপোর্টার:
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তিন কিশোর খুন ও ১৫জন আহতের ঘটনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এক দফা সময় বাড়িয়ে তদন্ত শেষ করেছে কমিটি। এর আগে সমাজসেবা অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।
এদিকে, শনিবার সকালে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী। এসময় তিনি কেন্দ্রের বন্দি কিশোর ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন। সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। কেন্দ্রের সুষ্টু পরিবেশ নিশ্চিতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের নির্দেশনাও দেন।
শনিবার রাতে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছকে প্রধান করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার নাগাদ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে।
তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরির্দশন করেছেন। এসময় তিনি বন্দি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন। সেখানের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে সুষ্টু পরিবেশ নিশ্চিতে নানা নির্দেশনা দেন। এরপর সরকারি শিশু পরিবার পরিদর্শন করেন। সেখানেও খোঁজখবর নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বাকী দুই সদস্য হলেন পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক। কমিটিকে পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। গত ১৯ আগস্ট তদন্ত কমিটি আরও সাত দিন সময় চেয়ে আবেদন করে। সোমবার নাগাদ কমিটির প্রতিবেদন জমা হতে পারে বলে জানা গেছে। অপরদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোর ‘বন্দিদের’ অমানুষিক মারপিট করা হলে তিন কিশোর নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট রাতে নিহত কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা রোকা মিয়া যশোর কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়। এ মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসান কেন্দ্রের তত্ত¡বধায়ক (সহকারী পরিচালক) আব্দুল্যা আল মাসুদ, সহকারী তত্ত¡বধায়ক (প্রবেশন অফিসার) মাসুম বিল্লাহ, ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর একেএম শাহানুর আলম, সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মো. মুশফিকুর রহমান ও কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুক। রিমান্ড শেষে ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারের পর পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। রিমান্ড শেষে তারা কারাগারে রয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে গত ১৬ ও ১৭ আগস্ট কেন্দ্রের বন্দি আট কিশোরকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তারা হলেন- গাইবান্ধার খালিদুর রহমান তুহিন, নাটোরের হুমাইদ হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, পাবনার ইমরান হোসেন ও মনোয়ার হোসেন, রাজশাহীর পলাশ ওরফে শিমুল ওরফে পলান, কুড়িগ্রামের রিফাত আহমেদ ও চুয়াডাঙ্গার আনিছুজ্জামান। আদালতে তাদেরকে চারদিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে পুলিশকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এছাড়াও পাঁচ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তিন কিশোর বন্দি হত্যার ঘটনায় কর্মকর্তা ও বন্দিসহ মোট ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।