আউটসোর্সিংয়ে সচ্ছল মাগুরার প্রতিবন্ধী ফাহিমের পরিবার

মনোবল ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধা নয়, তা প্রমাণ করেছেন মাগুরার ফাহিম উল করিম

ব্যুরো রিপোর্ট: মনোবল ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধা নয়, তা প্রমাণ করেছেন মাগুরার ফাহিম উল করিম। শরীরের সচল মাত্র দু-তিনটি আঙুলকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মাসে তিনি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। এ অর্থ উপার্জন করে শুধু সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন তাই নয়, তিনি টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মাগুরা শহরের ভায়না পিটিআই পাড়ার বাবা-মা ও ছোট বোনকে নিয়ে বসবাস ২১ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাহিমের। বাবা রেজাউল করিম একটি বেসরকারি কোম্পানির বিপণন কর্মী। ২০১২ সালে জেএসসি পরীক্ষার আগে হঠাৎ করেই শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন মাগুরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ফাহিম। বাংলাদেশ ও ভারতে চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হয় তাকে।

চিকিৎসকরা জানান, জটিল ডুচেনেমাসকিউলার ডিসথ্রফি রোগে আক্রান্ত ফাহিম। জিনেটিক এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই দেশে-বিদেশের কোথাও। জটিল এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে হাত-পাসহ গোটা শরীর শুকিয়ে প্রতিবন্ধিতার শিকার হন তিনি। তবে শরীর অচল হলেও দমে যাননি ফাহিম। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করার চেষ্টা করেন তিনি। মোবাইলের মাধ্যমে এক কাজ করতে ব্যর্থ হলেও মনোবল হারাননি।
২০১৬ সালে প্রাইভেট পড়িয়ে জমানো টাকা ও ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটি ল্যাপটপ কেনেন। এর পর ইন্টারনেট ঘেঁটে অল্পদিনের মধ্যে আউটসোর্সিংয়ে কাজ করার ধারণা নেন। ২০১৭ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন মার্কেটে কাজ খুঁজতে থাকেন। অল্প দিনের মধ্যে পাঁচ ডলারের একটি কাজ পেয়ে যান। স্বল্প সময়ের মধ্যে সফলভাবে কাজটি করার জন্য বায়ার তাকে আর ১০ ডলার বোনাস দেন। এর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ফাহিমকে। প্রথমে ব্যানার ও বিজনেস কার্ড দিয়ে কাজ শুরু করলেও এখন তিনি সব ধরনের কাজই করে থাকেন। কাজের দক্ষতার কারণে এখন তিনি ফাইবারে লেভেল টুতে টপ রেটেড আপওয়ার্কার। বর্তমানে বিশ্বের ২৫টি দেশের চারশ’ বায়ারদের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। অর্ডার এত বেশি যে, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেও কাজ শেষ হবে না। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করে দুই বছর ধরে ফাহিম মাসে গড়ে ৪০ হাজার টাকা করে আয় করছেন। তার উপার্জনে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরেছে। বোনের লেখাপড়া চলছে। বাড়ি করার জন্য শহরে জমি কিনেছেন। হাতে কিছু টাকা সঞ্চয় রয়েছে তার।

ফাহিম বললেন, স্টিফেন হকিন্স তার প্রেরণা। তিনি মনে করেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই সাফল্যের পথ আটকাতে পারে না। সেই মনোবলকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে তিনি সফল হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: সমকাল