২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রোহান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

ব্যুরো রিপোর্ট: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইজিবাইকচালক আবু রোহান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গানের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে যাত্রীবেশে চালক আবু রোহান মোল্লাকে (২০) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। শুক্রবার নড়াইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতার তিন আসামি। তারা হলেন- নড়াইল জেলার কোমরখালি গ্রামের আলিম মোল্লার ছেলে আল মামুন (১৯), একই গ্রামের মঞ্জুর শেখের ছেলে শাহিন শেখ (১৯) ও ভোয়াখালি (বিশ্বাসপাড়া) মৃত রফিকের ছেলে মাসুদ রানা (৩১)। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন প্রসঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যা মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছি। গ্রেফতার তিন আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার হয়েছে। ২৫ নভেম্বর নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের বামনহাট এলাকার পাকা রাস্তার পাশ থেকে ইজিবাইক চালক আবু রোহান মোল্লার (২০) লাশ উদ্ধার হয়। ওই দিন নিহতের পিতা পিতা ডাঙ্গাসিঙ্গিয়া গ্রামের চাঁন মিয়া নড়াইল সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করেন।

জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছেন, আসামি আল মামুন, শাহিন শেখসহ তাদের সহযোগীরা ইজিবাইক ছিনতাইয়ের একটি সক্রিয় চক্র। ২৪ নভেম্বর তারা রোহান মোল্লার ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনানুযায়ী ওই দিনই সন্ধ্যার দিকে পার্শ্ববর্তী বামনহাট এলাকায় গানের অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়ার কথা বলে রোহান মোল্লার ইজিবাইক ভাড়া করে রওনা হয়। এক পর্যায়ে তারা নড়াইল সদর থানার বামনহাট (মাইজপাড়া টু গাবতলা) পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছালে আল মামুন ও শাহিন শেখসহ তাদের সহযোগীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী ইজিবাইকচালক রোহান মোল্লা গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

তিনি জানান, তারা লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চালকের মোবাইল ও ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার রাতেই অভিযুক্ত আল মামুন ও শাহিন শেখদের সহযোগীরা অভিযুক্ত মাসুদ রানার নিকট ৮০ হাজার টাকায় ভিকটিমের ইজিবাইক বিক্রি করে দেয়।এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৬ নভেম্বর রাত আড়াইটার দিকে নড়াইলের বাড়ি থেকে প্রথমে আল মামুনকে, ওই রাতে ৩টার দিকে মাসুদ রানা ও একই দিন বিকালে সদর থানার টার্মিনাল এলাকা থেকে শাহিন শেখকে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য মতে, তাদের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে নিহত রোহানের মোবাইল ও যশোরের উপশহর থেকে লুণ্ঠিত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার নড়াইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে হাজির করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।