আমরা তাঁকে ভুলে গেছি

সাজেদ রহমান : তাঁর ছিল দেশপ্রেম। অভাবও দেশপ্রেমকে পিছু টানতে পারেননি। সুশীল কুমার বসু। বাড়ি যশোরের কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামে। ছাত্রাবস্থায় তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। খুলনার দৌলতপুর বিএল কলেজে ভর্তি হয়ে বিখ্যাত বিপ্লবী কিরণ মুখার্জীর সংস্পর্শে আসেন এবং যুগান্তর দলের সদস্য হন।
অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে কলেজ বর্জন করে নড়াইলের ‘এগারখান’ গ্রামে গিয়ে কিছুদিন গ্রামোন্নয়নের কাজ করেন। সেখান থেকে নিজ গাঁয়ে গিয়ে নাম পারিশ্রমিককে স্কুলের শিক্ষকতা শুরু করেন। সুলেখক হিসাবে বিচিত্রা প্রভৃতি নাম করা পত্রিকায় তাঁর গ্রামোন্নয়ন বিষয়ক বহু লেখা প্রকাশিত হয়। গাঁয়ের দুঃখী ও দরিদ্র মানুষের সেবা প্রভৃতি নানা সমাজ কল্যাণকর কাজ করে কায়েমী স্বার্থসম্পন্ন কিছু মানুষের প্রচন্ড বিদ্বেষ ভাজন হন। তারা তাঁকে একদিন হত্যা চেষ্টাও করে, ভাগ্যক্রমে তিনি রক্ষা পান। এই সময় বন্ধু কৃষ্ণবিনোদ রায়ের প্রভাবে তিনি যুবসংঘে যোগ দেন। মার্কসবাদে বিশ্বাসী হয়ে কৃষক আন্দোলনে সামিল হন। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কেশবপুর এবং পাঁজিয়ায় যে জেলা ও সারা বাংলা কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তিনি তার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও সংগঠক ছিলেন। অভাব অনটন এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমে গুরুতর পীড়িত হয়ে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় চলে যান এবং জীবন ধারণের জন্য দৈনিক বসুমতি পত্রিকায় চাকরি নিতে বাধ্য হন। কলকাতায় বাসকালে ‘কৃষক আন্দোলন’ ‘হিন্দু না মুসলিম’, এ যুদ্ধ আমাদের’, নামের কয়েকটি মূল্যবান পুস্তক লেখেন, যা খুব সমাদৃত হয়। কিন্তু রোগ তাঁকে মুক্তি দেয় না। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে এই সৎ নিষ্ঠাবান দেশ প্রেমিকের জীবনদীপ অকালে নির্বাপিত হয়। আমরা তাঁকে ভুলে গেছি।

  • ( লেখাটি সাংবাদিক সাজেদ রহমানের ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়া)