যশোরে ভারতফেরত দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সনাক্ত

ব্যুরো রিপোর্টার: যশোরে ভারতফেরত দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে নমুনা সিকুয়েন্সিং করে শনিবার দুপুরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২ হাজার ৪৭৯ জন ভারতফেরত বাংলাদেশী পাসপোর্টযাত্রী প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে ১২জনের করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকীদের বেনাপোল, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ভারত ফেরত করোনার রোগীর নমুনায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সনাক্ত হয়েছে। ল্যাবে কিছু সিকোয়েন্স করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি আমরা আইইডিসিআরকে (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) জানিয়েছি। পাশাপাশি যশোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছি।
যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। আর এদের মধ্যে দু’জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্ট বি-১.৬১৭.২ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাবল মিউটেশন নয়। তবে যেহেতু একটি এসেছে, ফলে ডাবল মিউটেশন বা অন্য ভেরিয়েন্টও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ আরও উল্লেখ করেছেন, যদিও সনাক্ত হওয়া ভেরিয়েন্টটি ডাবল মিউটেশন নয়। কিন্তু এটিই ভারতে ২০ ভাগ এবং যুক্তরাজ্যে ৫৯ ভাগ ছড়িয়েছে।
প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ আরও জানিয়েছেন, কোন রোগীর নমুনায় এই ভেরিয়েন্ট এসেছে; তা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা এই রোগীদের আলাদাভাবে আইসোলেশনে রেখেছে।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, করোনা রোগীর ভারতীয় ভেরিয়েন্টের কোনো তথ্য আইইডিসিআর থেকে তারা পাননি। আইইডিসিআর থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তারা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।